আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের নিউইয়র্ক শহর যেন এক রাতের জন্য রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে। জমকালো আলোকসজ্জা, তারকাদের বর্ণিল সাজ আর চোখধাঁধানো গ্ল্যামারে চারপাশ মেতে উঠেছিল একদম উৎসবের আমেজে। সুযোগটি ছিল ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এর। দুই দেশের জাতীয় সংগীতের আবেগঘন সূচনার মধ্য দিয়ে যখন এই তারকাখচিত মহাযজ্ঞের পর্দা উঠল, তখন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে বিশ্বস্ততার সাথে তুলে ধরার পাশাপাশি বিনোদন জগতের গুণীদের সম্মানিত করার এই আয়োজন প্রবাসীদের জন্য নিয়ে এসেছিল এক আলাদা উন্মাদনা। সাতটি বড় বড় ক্যাটাগরিতে মোট ৩৭ জন উজ্জ্বল শিল্পীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কাঙ্ক্ষিত এই সম্মাননা। সেই সাথে প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি চর্চা ও প্রসারে অনন্য অবদানের জন্য ১৩টি সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
চলচ্চিত্রের আলো ঝলমলে বিভাগে সেরা পরিচালকের সম্মাননা নিজের ঝুলিতে পুরেছেন বর্তমানের অন্যতম ব্যবসাসফল নির্মাতা রায়হান রাফি। আর পর্দায় দুর্দান্ত অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়ে সেরা অভিনেত্রীর ট্রফি জিতে নিয়েছেন তমা মির্জা। খল চরিত্রে যার উপস্থিতি সিনেমায় আলাদা উত্তেজনা তৈরি করে, সেই মিশা সওদাগর পেয়েছেন সেরা খলনায়কের পুরস্কার। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে নাটক, সিনেমা ও নির্মাণে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন গুণী অভিনেতা আফজাল হোসেন। আমাদের সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে বহুমাত্রিক অবদান রেখে বিনোদন জগৎকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরকে সম্মানিত করা হয়েছে সম্মানজনক আজীবন সম্মাননায়।
রূপালি পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখদের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানটিতে এনে দিয়েছিল দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য। উৎসবের আলোয় সেরা টিভি অভিনেতার মুকুট মাথায় পরেছেন তরুণের পছন্দের অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান, আর সেরা টিভি অভিনেত্রী হিসেবে বাজিমাত করেছেন মিষ্টি হাসির অর্চিতা স্পর্শিয়া। পাশাপাশি দর্শকদের নিখাদ ভালোবাসায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রীর খেতাব জিতে নিয়েছেন সামিরা খান মাহি ও ফাল্গুনী রহমান জলি।
গানের সুর আর ছন্দের আবহ না থাকলে কি আর জাঁকজমক অনুষ্ঠান জমে! সংগীত বিভাগে সুরের জাদুতে সেরা সংগীতশিল্পীর পুরস্কার কেড়েছেন শাহ মাহবুব, আর মিষ্টি কণ্ঠের জাদুতে সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর ট্রফি উঠে এসেছে অঙ্কন ইয়াসমিনের হাতে। এছাড়া মঞ্চ মাতিয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন ইমরান মাহমুদুল, দিলশাদ নাহার কণা, মিলা ইসলাম ও ইবরার টিপুর মতো দেশসেরা তারকা গায়কেরা।
প্রবাসের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও সুরের এই মেলবন্ধন যেন প্রমাণ করল সীমান্ত পেরিয়েও শিল্পীদের ভালোবাসা কতখানি জীবন্ত। আয়োজকদের আশা, সুদূর প্রবাসে প্রতি বছরের এই আয়োজন আন্তর্জাতিক আঙিনায় বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতিকে আরও উঁচুতে তুলে ধরবে।