Monday 12 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য সাড়ে ৪ কোটি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২৬ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩৭

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেব অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ফ্যামিলি কার্ড ডাটাবেইজ সংগ্রহে তথ্য সংগ্রহকারীরা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এর অংশ হিসেবে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।

পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‌‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ করা প্রক্সি মিন্স টেস্ট পদ্ধতিতে দেশের সব পরিবারকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি কোয়াইন্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

মন্ত্রী জানান, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম নম্বর প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে ভাতা দেওয়া হবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়াইন্টাইলভুক্ত অর্থাৎ তুলনামূলক কম স্কোর পাওয়া পরিবারগুলোর নারী পরিবার প্রধানকে।

সোমবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে দেশের সকল এলাকার খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। নিয়োজিত কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কার্যক্রমটি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করে এ হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছর নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনা হবে।

উপকারভোগীদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআরকোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকা পের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণি-বিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।

প্রেস কনফারেন্সে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন , সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর