Wednesday 28 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেহ-ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে একজনের মৃত্যু, গ্রেফতার ২

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪৬

নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমারে দেহ ব্যবসায়ী এক নারীকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব ও মারধরের ঘটনায় শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় শাহনাজ বেগম (৩০) ও আব্দুর রশীদ (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শ্যামল শর্মা ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শুসেন শীলের ছেলে। পেশায় তিনি নাপিত ছিলেন। গ্রেফতাররা রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০) এবং ডোমারে হরিনচড়া ইউনিয়নের শালমারা শেওটগাড়ী এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশীদ(৪৫)।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আব্দুর রশীদসহ কয়েকজন রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগম নামের ওই নারীকে ডোমারের নীলাহাটিতে কলন্দর নদীর পাড়ে অনৈতিক কাজের জন্য নিয়ে আসেন। পরে তাকে নীলাহাটি শ্মশানঘাটের পাশের কলন্দর নদীর এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মার অভিযোগ, সোমবার রাতে নীলাহাটি শ্মশানঘাটে শ্যামল ও হাফিজ নামের দুই ব্যক্তি তার বড় ভাই শ্যামল শর্মাকে ফোন করে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর একপর্যায়ে অন্যদের সঙ্গে তার ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে আব্দুর রশীদ, শ্যামল, হাফিজসহ কয়েকজন তার ভাইকে মারধর করেন। এতে শ্যামল অচেতন হয়ে পড়েন।

কৃষ্ণ শর্মা আরও জানান, পরে শাহজাহান নামের এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে তাদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্যামলকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। তার নাভির নিচের অংশ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ওই এলাকায় বাইরে থেকে নারী এনে রাতের আঁধারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।

ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম সরকার শ্যামল শর্মার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্য জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর