গাইবান্ধা: জেলায় মাদরাসার এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাসান আলী ডাক্তারকে (৬৯) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হাসান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ীর মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই এলাকার দ্বীনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া ও কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
এসআরবি-১৩-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে ওই কিশোরীকে মাদরাসার আবাসিক শাখায় ভর্তি করা হয়। পরে জীবিকার প্রয়োজনে তার বাবা-মা ঢাকায় চলে যান। তবে প্রতি মাসে গাইবান্ধায় এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেন এবং মাদরাসার খরচ দিয়ে যেতেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে থেকে মাদরাসার পরিচালক হাসান আলী ওই কিশোরীকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি কিশোরী তার বাবা-মাকে জানালে তারা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার ফজরের নামাজের পর সকাল ৬টার দিকে মাদরাসাসংলগ্ন নিজ বাড়িতে ওই কিশোরীকে ডেকে নেন পরিচালক। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যাসহ মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই কিশোরীর সঙ্গে তার বাবা-মায়ের যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় কিশোরী। ৩১ আগস্ট গাইবান্ধায় এসে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন তার বাবা।
এসআরবি-১৩ জানায়, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১৩-এর গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি দল পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে শ্যামলী ট্রাভেলসের কাউন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর হাসান আলীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।