Sunday 01 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুর বিভাগে এইচএসসি ফল / ৪৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ, ইংরেজিতেই ফেল ৪৬ হাজার

রাব্বী হাসান সবুজ
১ নভেম্বর ২০২৬ ২৩:০০ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬ ২২:৫০

রংপুর: রংপুর বিভাগে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর ৬০ হাজার ৩৮৯ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তাদের মধ্যে শুধু ইংরেজি বিষয়েই ফেল করেছেন ৪৬ হাজার ৬৮৯ জন। সব মিলিয়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা বিভাগের প্রকাশিত গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে সর্বনিম্ন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯৫৩ জন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বোর্ডের অধীন ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। বিপরীতে শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে মাত্র ৬টি প্রতিষ্ঠান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সই করা ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলার ৬৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। সে হিসাবে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

কমেছে পাসের হার

গত বছরের তুলনায় এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে ছিল ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিলেন।

বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে পাস করেছিলেন ৭৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নিয়মিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ভিন্ন পদ্ধতিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০২১ সালে সীমিতসংখ্যক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল; সে বছর পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও

এবার দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে বিভাগের ৮ জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৫৭০ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছেন।

এর আগে ২০২৫ সালে এ বোর্ডে ৬ হাজার ২৬০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ইংরেজিতে মহাবিপর্যয়

এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ইংরেজি বিষয়ের ফল। বোর্ডে এ বিষয়ে পাসের হার ৫৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ ৪৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে শুধু এ বিষয়েই ফেল করেছেন ৪৬ হাজার ৬৮৯ জন।

ইংরেজিতে এমন ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, বোর্ডের অধীন অনেক কলেজেই অভিজ্ঞ ও দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। যথাযথভাবে পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও অস্থিরতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব তাদের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ফলাফলে পড়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইংরেজির এই ফলকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে জানান, বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ভবিষ্যতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো করেছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মাত্র ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফলাফল বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে আসা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ও প্রস্তুতির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছেন। ছেলেদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ, বিপরীতে মেয়েদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ। মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ২২ হাজার ১০৬ জন এবং ছাত্রী ২৯ হাজার ২৯২ জন।

জিপিএ-৫-এর শীর্ষ ৫০ প্রতিষ্ঠানে রংপুরের আধিপত্য

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ভিত্তিতে প্রকাশিত সেরা ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে রংপুর জেলার প্রতিষ্ঠান। এ জেলার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকায় রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে দিনাজপুরের ১১টি প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া নীলফামারী ও লালমনিরহাটের ছয়টি করে, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের পাঁচটি করে, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি এবং পঞ্চগড়ের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকায় স্থান পেয়েছে।

রংপুর জেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে রয়েছে রংপুর সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ২৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ২০৭ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪২৮ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ৯৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৪৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩১০ জন।

এ ছাড়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১২২ জন, কারমাইকেল কলেজে ১১৬ জন এবং দ্য মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

রংপুর ক্যাডেট কলেজের শতভাগ সাফল্য

সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে রংপুর ক্যাডেট কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। অর্থাৎ পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই শতভাগ সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রংপুরের অন্যান্য ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রংপুর সরকারি কলেজ, রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কারমাইকেল কলেজ এবং দ্য মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

অন্যদিকে রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের ৯৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৬১ জন পাস করে ৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪৮৮ জনের মধ্যে ৪৪৫ জন পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৫ জন।

৪৯ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস

বোর্ডের ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৩টি।

এর মধ্যে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মানবিক বিভাগে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। সঞ্জীব বর্মন নামের ওই পরীক্ষার্থী একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী জানান, ২০১১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। অফিস সহায়কসহ বর্তমানে সেখানে মোট ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক নিরাপত্তার অভাবে ভালো শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হতে আগ্রহী হন না। ফলে শিক্ষার্থীসংখ্যা দিন দিন কমেছে।

তবে ১২ জন শিক্ষক থাকার পরও একমাত্র পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষার্থী ধরে রাখার সক্ষমতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হারুন অর রশীদ চৌধুরী মতে, ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তাঁর বিশ্লেষণে আরও কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে।

এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শিখন ঘাটতি, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব, শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং কার্যকর শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি।

এ ছাড়া করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট শিক্ষাগত ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতার প্রভাবও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পড়েছে বলে মনে করেন তিনি। শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে প্রাইভেটনির্ভরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয়কেও তিনি শিক্ষার মান কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে জরুরি উদ্যোগের তাগিদ

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফল শুধু পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান নয়; এটি আট জেলার কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার মান, শিক্ষকসংকট, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি নিয়ে গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

বিশেষ করে ইংরেজি ও আইসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে শূন্য পাস করা ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীসংখ্যা ও ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হারুন অর রশীদ চৌধুরী ।

শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদারের যে উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদান, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পিছিয়ে থাকা কলেজগুলোর জন্য বিশেষ তদারকি কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলা সহজ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর