Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রদল নেতাদের নামে মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ জুলাই ২০২৬ ২০:৩০

প্রতীকি ছবি। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী: রাজশাহীতে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় মো. শাহীন আলী নামক এক কলেজ ছাত্রকে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শাহীন রাজশাহী কলেজের ছাত্র এবং রাজশাহী রুকইয়াহ অ্যান্ড হিজামা সেন্টারের পরিচালক। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজহার মতে, শুক্রবার (৩ জুলাই) জুম্মার নামাজের পূর্বে শাহ মাখদুম থানা মোড়ে একটি দোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা লেনদেন করতে যান শাহীন। সেখানে দেখতে পান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এক বৃদ্ধকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছে। পরে বৃদ্ধ এক দোকানদারকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা ওই ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দিতে বলেন। এ ঘটনায় শাহীন প্রতিবাদ ও ভিডিও করতে গেলে তার মোবাইলফোন কেড়ে নিয়ে আনুমানিক সাতজন তাকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক পেটায় এবং তার ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দামের মোবাইলফোন ভেঙে ফেলে।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাকে বেধড়ক পেটানোর ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ চরমভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তৎক্ষনাৎ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সুস্থ হয়ে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি শাহ মাখদুম থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করলেও পরে মামলা নিয়েছে বলে জানান শাহীন। তার দায়েরকৃত মামলা নম্বর হলো ৫।

মামলার এজাহারে, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মণ্ডল (আহাদ), যুবদল কর্মী মো. পলাশ, ছাত্রদল কর্মী মো. আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শাহীন আলী বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। আমার চোখের সামনে এক বৃদ্ধের থেকে জোর করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছিল। দেশসেরা রাজশাহী কলেজের ছাত্র হিসেবে, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার চোখের সামনে ঘটা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমার কাছে নৈতিক দায়িত্ব মনে হয়েছে। এর জন্য আমাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হলো। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং বিচার দাবি করছি।’

এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শাকিল মণ্ডল আহাদের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন চাঁদাবাজির শিকার হওয়া দুলাল মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁদে ফেলে চরম মারধর করা হয়েছে। এরপর ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমার কাছে যা টাকা ছিল, সাথে সাথে নিয়ে নিয়েছে। বাড়ি থেকে আমার মেয়ের মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিয়ে তাদেরকে দিয়ে আমি জলদি ওখান থেকে চলে আসি। ওরা আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবিও রেখে দিয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে শাহ মাখদুম থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল আলীম বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে চাঁদাবাজির ঘটনা কেন হয়েছে, কী বিষয় আমরা এখনো জানতে পারিনি।’

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর