কুমিল্লা: কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ সময় গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার তিনজন হলেন-মো. মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে আবু (৫৮), নিহতদের আপন চাচা ও মামলার মূল আসামি, তার স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫) এবং পালিত কন্যা ইতি (১৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানার দড়ানীপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মঞ্জুরুল আলম ওরফে তুতু (৩৫) ও খালেদা আক্তার ওরফে বেবি (৭০) নিহত হন। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
জোড়া হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা নগরীর বাদশাহ মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলার মূল আসামি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে গ্রেফতার হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মঞ্জুরুল আলম ওরফে তুতু ও খালেদা আক্তার ওরফে বেবিকে হত্যার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।