নেত্রকোনা: নেত্রকোনার হাওড় জনপদ মোহনগঞ্জ পৌর শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শিয়ালজানি খালটি এখন কচুরিপনা, পলিথিন ও ময়লা-আবর্জনায় ভরা। একসময় নৌকা চলাচল করা এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত এ খালটি সংস্কারে ২৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।
কংস নদের শাখা এ খালটির পুনঃসংস্কার ও নাব্যতা ফেরানোর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। পরে ২০১৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও মোহনগঞ্জ পৌরসভা যৌথভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খালের পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে।
পৌরসভার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গরুহাট্টা রোড থেকে মাইলোরা পর্যন্ত ২ হাজার মিটার দীর্ঘ খালের উভয় তীরে সিসি ব্লক স্থাপন ও সুরক্ষা কাজে পাউবো ব্যয় করে ১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। চলাচলের সুবিধার জন্য পাঁচটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণে পৌরসভার ব্যয় হয় ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া দুই পাড়ে টেকসই ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয় আরও ৮ কোটি ৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন।
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর এলাকার মানুষের চলাচলে সুবিধা হয়। নান্দনিক সেতু দেখতে অবসর সময়ে অনেক মানুষ খালপাড়ে ভিড় করতেন।
তবে বর্তমানে সেই চিত্র নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পুরো অংশ কচুরিপানায় ভরে গেছে। বিভিন্ন সড়কের ময়লা, পলিথিন ও আবর্জনায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এলাকার ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন।
খালের দুই পাড়ের চলাচলের পথ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। কয়েকটি বৈদ্যুতিক বাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, কিছু বাতি মৃদু আলো দিচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে খালপাড়ের সড়ক দিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর খালপাড়ে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এবং রাতের বেলা মাদকাসক্তদের আড্ডাও বসে।
পৌরসভার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় বাজারের মানুষ সুযোগ বুঝে খালে ময়লা আবর্জনা ফেলে দেয়। ভাসমান জনগণ পায়খানা-প্রস্রাব করে। ময়লার দুর্গন্ধ ও ঝোপঝাড়ের জন্য যাত্রীরা এখন খালপাড়ের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারে না। এখানে রাতে নেশাগ্রস্তরা আড্ডা দেয়।’
আরেক বাসিন্দা জীবন সাহা বলেন, ‘একসময় এই খালে নৌকা চলাচল করত। মানুষ গোসল করত ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির বাসনকোসন ধৌত করত। এ খাল দিয়েই কংসের পানি বিভিন্ন হাওড়ে যেত। বিগত আমলে সংস্কারও হয়েছে। তবে এখন আগের পরিবেশ সংস্কারের অভাবে আর নেই। আবার এটি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
পৌর প্রকৌশলী সাইফুল আমিন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড পৌরসভায় এখনো্ আনুষ্ঠানিকভাবে শিয়ালজানি খাল হস্তান্তর করেনি; যে কারণে তারা ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন জানান, উন্নয়ন শেষে পৌরসভার কাছেই খালটি হস্তান্তর করা হয়েছে; পরিষ্কার করার দায়িত্ব তাদের।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জের ইউএনও আমেনা খাতুন বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সব বিবেচনা করে বরাদ্দসাপেক্ষে শিয়ালজানি খাল দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাউবোকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে এরইমধ্যে বলা হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু হবে।’