Thursday 08 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খুলনার ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

রেজাউল ইসলাম তুরান
৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪০ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪২

খুলনার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

খুলনা: খুলনার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। প্রতিদিন হাসপাতাল গুলোতে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে জনবল সংকটের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ রোগীরা।

খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৭৭৭ পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৭৫৮টি পদ। এর মধ্যে দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮৩ পদের ৭৩টি, ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬২ পদের ৪৯টি, ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭৮ পদের ১০৮টি এবং কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১ পদের ১০১টি, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫০ পদের ১২৪টি, দাকোপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২১৪ পদের ৮৭টি, বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪২ পদের ৫৬টি, রূপসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭২ পদের ৭৬টি, তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭৫ পদের ৮৪টি শূন্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোগীদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে খুলনা শহরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ ভোগান্তি আরও বেশি।

খুলনার রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা জামাল শেখ সারাবাংলাকে বলেন, ‘হাতে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। ডাক্তার বলেছেন এক্স-রে করতে হবে। কিন্তু হাসপাতালে যে এক্স-রে মেশিন রয়েছে সেটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সে কারণে খুলনা শহরে অথবা বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অবস্থিত বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্সরে করতে হবে।’

তেরখাদা উপজেলার আজগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামরুল শেখ সারাবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আমরা এগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাজেদুল ইসলাম কাউছার সারাবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের যথাসাধ্য সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ’হাসপাতালটিতে বিভিন্ন পদে জনবল সংকট রয়েছে। ফলে রোগীদের পরিপূর্ণ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা অল্প জনবল নিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

খুলনা সিভিল সার্জন মোছা. মাহফুজা বেগম সারাবাংলাকে বলেন, ‘জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য জনবলের সংকট রয়েছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে অচল যন্ত্রপাতির তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত তারা ব্যবস্থা নেবেন।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর