ফরিদপুর: ফরিদপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা করার দায়ে মামলার বাদী রিনা আক্তার ও স্বামী মাসুদ ব্যাপারীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।
রায়ের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের ওয়াজ হাওলাদারের ডাঙ্গী গ্রামের গৃহবধূ রিনা আক্তার (৩৫) ও তার স্বামী মাসুদ বেপারী (৪২)।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, স্বামী ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মাসুদ ব্যাপারীর স্ত্রী রিনা আক্তার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। এক নম্বর আসামি জয়নাল হাওলাদার প্রায় তার বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। ঘটনাক্রমে গোপনে রিনার একটি ব্যক্তিগত ছবি মোবাইলে ধারণ করেন জয়নাল। তারপর থেকে ওই ছবির কথা বলে রিনাকে ব্ল্যাকমেইল করতেন জয়নাল বলে তার অভিযোগ। বিষয়টি রিনার স্বামীকে জানানো হলে জয়নালকে তাদের বাড়িতে আসাতে নিষেধ করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল হাওলাদারের (৪৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন রিনা আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওই বছরের ২৮ আগস্ট রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা জয়নাল তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মুখ চেপে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জয়নাল পালিয়ে যান।
এই ঘটনায় রিনা আক্তার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বুধবার আদালতে হাজির হন রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারী। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার একপর্যায়ে তারা যে মামলা করেছেন, সেটি মিথ্যা-এমন প্রমাণ উঠে আসে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এরপর মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে মামলার বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী খান ভূইয়া জানান, মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা করার অভিযোগে আদালত মামলার বাদী ও তার স্বামীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।