চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধা রহিমা খাতুন মনোয়ারা রেফুলের সম্পত্তি লিখে নেওয়া এবং তাকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে বুয়েটের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার মো. মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন রহিমা খাতুন। তার অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত মামলা চলছে—এমন কথা বলে বিভিন্ন কাগজে তার ও তার প্রয়াত স্বামীর টিপসই নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তাদের সম্পত্তির বড়ো একটি অংশ তাদের ছেলের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন রহিমা খাতুন। টিনের চালার বিভিন্ন স্থানে ফুটো, দেয়ালে ফাটল এবং ঘুণে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঠের অংশ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটছে তার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রহিমা খাতুনের স্বামী মৃত এসলাম হোসেনের রেখে যাওয়া ধান ও আমের জমি এবং বসতভিটাসহ প্রায় ১২ বিঘা সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্য সন্তানদের বঞ্চিত করে এসব সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দিনমজুর ছোটো ছেলে ইসমাইল হোসেন মাকে নিয়ে বাপ-দাদার পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন। ওই বাড়ি থেকেও তাদের উচ্ছেদের জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। থানায় এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো উদ্যোগেই স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, সালিশে সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও অভিযুক্ত মুখতারুজ্জামান তা মানতে রাজি হননি।
শতবর্ষী রহিমা খাতুন বলেন, সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চান না তিনি। ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে যেতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। জীবনের শেষ সময়ে তিনি শান্তিতে নিজের বাড়িতে থাকতে চান।
রহিমা খাতুনের সাত সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অভিযোগ, বাবা-মায়ের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে মুখতারুজ্জামান সম্পত্তিগুলো নিজের নামে লিখে নেন। এতে অন্য সন্তানরাও তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মুখতারুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একটি নম্বরে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তার ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইলফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক কমল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। সেখানে সম্পত্তি নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।’
এদিকে রহিমা খাতুনের দাবি, জীবনের শেষ সময়ে তিনি আর কোনো বিরোধ চান না। সন্তানদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট না করে নিজ বাড়িতে নিরাপদে ও শান্তিতে বাস করার সুযোগই তার একমাত্র প্রত্যাশা।