ঢাকা: প্রচলিত হেবা বা সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি বিধান পুরোপুরি অপরিবর্তিত রেখে একটি নতুন বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। সংশোধিত নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে নিজের সম্পত্তি হস্তান্তরিত বা দান করে দেওয়ার পরও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির পূর্ণ ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছে সংরক্ষিত রাখতে পারবেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নতুন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশাসনিক স্পষ্টতা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিজ্ঞপ্তিমূলক পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারির মাধ্যমে সংশোধিত আইনের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইনসভার সিদ্ধান্তে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই সংশোধনের মাধ্যমে ১৮৮২ সালের ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২২ ধারার অধীনে নতুন করে ১২২এ এবং ১২২বি নামে দুটি পৃথক ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পরিবারের কাছের সম্পর্কের মধ্যে দান করা সম্পত্তি আইনিভাবে অন্যের নামে স্থানান্তরিত হলেও মূল মালিক যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন তিনি ওই বাড়ি বা জমি স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করার পূর্ণ আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকবেন।
নতুন এই আইন প্রণয়নের ফলে বিদ্যমান সাধারণ দান, প্রচলিত হেবা ব্যবস্থা কিংবা অছিয়তনামার পুরোনো নিয়মাবলীতে কোনো পরিবর্তন আসবে না, বরং এটি হস্তান্তরের অতিরিক্ত একটি বিশেষ পছন্দ হিসেবে যুক্ত থাকবে। বিশেষ করে পরিবারে সম্পদ হস্তান্তরের পর জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের আবাসন ও জীবনযাপনের আইনি নিশ্চয়তা অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার এই পরিবর্তন এনেছে। নতুন ধারা দুটি যুক্ত হওয়ায় দেশের নাগরিকেরা তাদের নিজস্ব সম্পত্তি পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে আইনগতভাবে হস্তান্তর করার পাশাপাশি নিজেদের জীবিত অবস্থায় সেই সম্পত্তিতে বসবাস ও ভোগের পূর্ণ স্বত্ব বজায় রাখতে পারবেন।