Thursday 22 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ অক্টোবর ২০২৬ ২১:২৪

মানববন্ধন।

খুলনা: সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

‘আমরাই আগামী’, ‘ক্লাইমেট কানেক্টস’, ‘রিগ্লোবাল’, ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, খুলনা’, ‘ক্লিন’ এবং ‘বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্নাল ডেট’ (বিডাব্লিউজিইডি)-সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মিত হলে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি ও মাছের প্রাপ্যতা কমে গেলে স্থানীয় জেলেরা তাদের প্রধান জীবিকা ও আয়ের উৎস হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। এতে উপকূলীয় মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে এ ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, এলএনজি আমদানিনির্ভর অবকাঠামো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। টার্মিনাল নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের ওঠানামা দেশের জ্বালানি খাতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত চাহিদা বিবেচনা না করে নতুন এলএনজি টার্মিনাল বা এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে তা অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে।

নতুন জীবাশ্ম জ্বালানির অবকাঠামোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে অর্থ ব্যয়ের আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, উপযোগী স্থানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। সৌরবিদ্যুতের প্রসার জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোরও একটি টেকসই বিকল্প।

কর্মসূচি থেকে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ থেকে সরে আসার দাবি জানান বক্তারা। দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা, বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় মানুষের অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবিও জানান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর