Friday 25 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘নারীর ক্ষমতায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:১১

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন

চট্টগ্রাম: ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতি টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারী বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু দিনের বড় একটি সময় পরিবারের সঙ্গে কাটায়। তাই শুধু শিক্ষকদের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না, সন্তান কী পড়ছে, কীভাবে সময় কাটাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনভাবে খোঁজখবর রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ফেসবুক ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো সন্তান যদি বই কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে, তাকে উৎসাহিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং মানসম্মত পাঠদানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানদের জোর করে সবকিছু করানো যাবে না। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে ভালো মন্দের পার্থক্য বোঝাতে হবে। সন্ধ্যার পর সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তানের ঘুম, পড়াশোনা, মোবাইল ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা জরুরি।

হাটহাজারীকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি মুক্ত করতে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর করে সামাজিক অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদক ও অপরাধ বিরোধী সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কমিটিতে স্থানীয় সমাজপতি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। এলাকার মাদকসেবী, মাদক বিক্রেতা এবং নিয়মিত সামাজিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসময় তিনি হাটহাজারীকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজি মুক্ত একটি সংসদীয় এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

হাটহাজারীর উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শুধু বড় বড় প্রকল্প নয়, যেসব প্রকল্পে অল্পসংখ্যক হলেও দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, সেসব এলাকাতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।এছাড়া একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি শুধু কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ভোটারের প্রতিনিধি নন, হাটহাজারী ও বায়েজিদের সব মানুষের জনপ্রতিনিধি। এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী জোড় দিয়ে বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে নারীদের এগিয়ে নেওয়া এবং তাদেরকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। এলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছেন, যার পাইলট পর্যায়ে হাটহাজারী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নওশীন আরজান হেলালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, বিদ্যালয়ের সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী ড. কানিজ ফাতেমা এবং বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান দৌলত। স্বাগত বক্তব্য দেন হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর