চট্টগ্রাম: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বেলায়েত হোসেন নামের সাবেক এক পুলিশ সার্জেন্টকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারায় আসামিকে তিন বছর কারাদণ্ড এবং ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একই আইনের ২৬ (২) ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আনাদায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।‘ তিনি জানান, ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ২০ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বেলায়েত হোসেন নিজের নামে ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জনের ঘোষণা দেন। তবে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এতে বেলায়েত হোসেন তার সম্পদ বিবরণীতে নিজ নামে ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া বেলায়তে হোসেনের সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৭ টাকা।
পাশাপাশি আয়কর নথিতে তার ঘোষিত ব্যয় ও খরচের পরিমাণ পাওয়া যায় ৮৪ লাখ ৮ হাজার ৬৯১ টাকা। সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫৪ টাকা। এ ক্ষেত্রে তার নিজ নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।