Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা / ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ৯ ডিসেম্বর

জবি করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৩

আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষাকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ইনসেটে নিহত জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ।

জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। একই সঙ্গে আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ১৫ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে আদালত আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

বিজ্ঞাপন

শুনানিতে আসামি বর্ষার পক্ষে আইনজীবী এ আল মামুন রাসেল বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু মামলায় ৪৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেও কেউ তার মক্কেলের সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু কেনার টাকা দেওয়া কিংবা ঘটনাস্থলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোরও যথাযথ প্রমাণ তদন্ত সংস্থা উপস্থাপন করতে পারেনি। এসব বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা শুধু বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আয়লানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বন্ধু মাহির তাকে ডেকে নেওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মাহির তাকে বলেছিলেন, ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো হবে; হত্যার কোনো পরিকল্পনার কথা তাকে জানানো হয়নি। বন্ধুর ডাকে সেখানে যাওয়ার কারণে তাকে হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত করা যায় না। এ সময় তিনি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি না দেওয়ার আবেদন জানান।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান বলেন, ভুক্তভোগীকে হত্যার জন্য ৩ আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসাইন জিপু বলেন, তিন আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে প্রায় ১ মাস আগে থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। তদন্তে তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আয়লান ও মাহিরের পক্ষে করা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

ছাত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

যেভাবে খুন হন জোবায়েদ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন মো. জোবায়েদ হোসেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে যান তিনি।

সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে ওই ছাত্রী জানান, জোবায়েদ স্যারকে খুন করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মোবাইল ফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান।

এরপর এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তারা সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে প্রায় ৯ মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।