Thursday 15 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জুবিন গার্গের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন সিঙ্গাপুর পুলিশের

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০০ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১০

কিছু কণ্ঠ থাকে, যেগুলো কেবল গান গায় না— মানুষের ভেতরের অনুভূতিকে ছুঁয়ে যায়। ভারতের সংগীতাঙ্গনে জুবিন গার্গ ছিলেন ঠিক তেমনই একজন শিল্পী। অসমিয়া লোকসংগীত থেকে আধুনিক সুর—সবখানেই ছিল তার স্বতন্ত্র উপস্থিতি। অথচ সেই কণ্ঠই একদিন হঠাৎ থেমে গেল সিঙ্গাপুরের গভীর জলে, রেখে গেল অসংখ্য প্রশ্ন, অশ্রু আর বিস্ময়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে এক ইয়ট পার্টিতে অংশ নিতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান এই জনপ্রিয় গায়ক। প্রথম দিকে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে হলেও, ভারতে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা, কেউ কেউ তো সরাসরি হত্যার অভিযোগও তোলেন। পরিবার, অনুরাগী—কেউই সহজে মেনে নিতে পারেননি তার এমন আকস্মিক বিদায়।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে সেই নীরবতার ভেতর কথা বলল সিঙ্গাপুর পুলিশ। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে উঠে আসে, ঘটনার সময় জুবিন গার্গ লাইফ জ্যাকেট পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। প্রথমে জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন তিনি। আয়োজকদের অনুরোধ সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার আর লাইফ জ্যাকেট পরেননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ইয়টের দিকে সাঁতার কাটতে গিয়ে একসময় নিস্তেজ হয়ে পড়েন তিনি।

এই তথ্য যেন একদিকে ঘটনার রহস্য কিছুটা পরিষ্কার করল, অন্যদিকে আরও গভীর বেদনার জন্ম দিল। কারণ জানা গেল, জুবিন গার্গ উচ্চ রক্তচাপ ও মৃগী রোগে ভুগছিলেন। এমন শারীরিক অবস্থায় সমুদ্রে নামা, তা-ও আবার নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া— যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতিই ডেকে আনে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তার মৃত্যু পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলেই হয়েছে। শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তা উদ্ধারকাজের সময়ের। কোনো মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত মেলেনি। আইনি দৃষ্টিতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে।

তবু ভারতে থামেনি আলোড়ন। আসামে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। দায়ের হয়েছে ৬০টিরও বেশি এফআইআর। অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে এসেছে আয়োজক থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠজনদের নামও। যেন জুবিন গার্গের মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, হয়ে উঠেছে একটি সামাজিক ও আবেগী প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু।

আজ যখন আদালতের নথিতে তার মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট, তখনও অনুরাগীদের মনে একটাই আক্ষেপ— আর একটু সতর্ক হলে কি এই কণ্ঠটাকে আরও কিছুদিন শোনা যেত না? মঞ্চে ওঠার আগের দিন, পরদিনই যেখানে গানে গানে মাতানোর কথা ছিল হাজারো মানুষকে, সেখানেই থেমে গেল তার জীবনযাত্রা।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

ইতিহাসের শীর্ষে জো সালদানা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৩

আরো

সম্পর্কিত খবর