হলিউডের রুপালি পর্দার জৌলুস আর অস্কারের সোনালি ট্রফি। এ যেন একে অপরের পরিপূরক। বিশ্বজুড়ে অভিনয়শিল্পীদের কাছে অস্কার মানেই পরম আরাধ্য এক প্রাপ্তি। কিন্তু গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাতে রাজি নন হলিউড সেনসেশন আমান্ডা সেফ্রিড। যখন চারদিকে অস্কারের মনোনয়ন নিয়ে তুমুল উত্তেজনা, তখন আমান্ডা জানালেন এক চমকপ্রদ তথ্য। তার মতে, ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় মানসম্মত কাজ নিয়ে টিকে থাকাটা অস্কার জেতার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২১ সালে ‘মান্ক’ সিনেমার জন্য প্রথমবার অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তার অভিনীত ‘দ্য টেস্টিমেন্ট অব অ্যান লি’ এবং ‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমা দুটিতে দুর্দান্ত অভিনয় করে আবারও আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। গোল্ডেন গ্লোবস থেকে শুরু করে ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ড। সবখানেই বইছে তার প্রশংসার জোয়ার। অনেকেই ধারণা করছেন, ২২ জানুয়ারি ঘোষিত হতে যাওয়া অস্কারের মনোনয়ন তালিকায় তার নাম থাকাটা কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে আমান্ডার ভাবনায় পুরস্কারের চেয়ে কাজই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
দ্য নিউ ইয়র্কারের এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে আমান্ডা বলেন যে, পুরস্কার পেলে অবশ্যই ভালো লাগে, কিন্তু এটি তার ক্যারিয়ারের জন্য অপরিহার্য কিছু নয়। তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে, গত এক দশকে কারা অস্কার জিতেছেন তা কয়জন দর্শক মনে রেখেছেন? আমান্ডার কাছে বড় সার্থকতা হলো পুরস্কার ছাড়াই এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা ধরে রাখা। তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শকদের আস্থা অর্জন করাটাই একজন প্রকৃত শিল্পীর আসল পরীক্ষা।
নিজের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনকেও বেশ স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। ‘মাম্মা মিয়া!’-এর মতো আকাশচুম্বী সাফল্য যেমন তিনি দেখেছেন, তেমনি ‘টেড ২’ বা ‘আ মিলিয়ন ওয়েজ টু ডাই ইন দ্য ওয়েস্ট’-এর মতো বক্স অফিসে ধুঁকতে থাকা সিনেমাও তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আছে। হার-জিত যাই হোক না কেন, আমান্ডা সেফ্রিড নিজের পছন্দ আর মূল্যবোধে অবিচল থেকে সামনে এগিয়ে যেতে চান। অস্কার আসুক বা না আসুক, বড় পর্দায় তার অভিনয়ের জাদুই হোক দর্শকদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। এমনটাই মনে করছেন এই সুদর্শনী।