আগামী ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। এই উপলক্ষে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সিনেমাটির প্রথম প্রদর্শন। রোমান্টিক-কমেডি ও ড্রামা ঘরানার চলচ্চিত্র হওয়ায় বিভিন্ন দৃশ্যে দর্শক যেমন হেসে উঠেছেন, তেমনি আবেগী হতেও দেখা গেছে তাদের। বছর দেড়েক হলো বিয়ে করেছেন সিনেমাটির গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ রচয়িতা ও নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। বিয়ের পরের অধ্যায়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিয়ের পর ধীরে ধীরে তিনি সম্পর্কের নানা স্তর বুঝতে পারছেন। প্রেমের সময়ের সেই ৪–৫ ঘণ্টার যোগাযোগ যখন ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকায় পরিণত হয়, তখন জীবনে কী কী পরিবর্তন আসে, তা তিনি ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন। তিনি আরও বলেন, তার বন্ধুরা বলেছিল বিয়ের পর তিনি বুঝতে পারবেন এবং তখন আর প্রেমের গল্প বলতে ইচ্ছা করবে না, কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি, বরং সম্পর্কের ভাবনা আরও স্নিগ্ধ হয়েছে এবং তিনি বাস্তবতার সঙ্গে চলতেই শিখছেন।
চলচ্চিত্রটির গল্পের সূচনার বিষয়ে জাহিদ প্রীতম বলেন, তাকে বলা হয়েছিল দর্শককে হাসতে হাসতে একটা গল্প বলতে, যেখানে সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসবে, আর সেখান থেকেই এই নির্মাণের শুরু। তিনি আরও বলেন, গল্পে জটিল কিছু না করার চেষ্টা করেছেন তিনি। বিবাহিত জীবনে একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া থাকাটাই আসলে সুখে থাকা বলে তিনি মন্তব্য করেন। ছোট ছোট সন্দেহ বা সিদ্ধান্ত মানুষকে আলাদা করে দেয় উল্লেখ করে তিনি প্রিয় মানুষের যত্ন নেওয়া এবং প্রতিদিন তাকে ভালোবাসার পরামর্শ দেন। চিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের সঙ্গে তার আগে কাজ হলেও আরিফিন শুভর সঙ্গে এটি তার প্রথম কাজ। আরিফিন শুভকে অত্যন্ত সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুভ কাজের সময় সেটে মুঠোফোন আনেন না কিংবা মনিটরও দেখেন না, বরং বিরতির সময় নিজের মতো থাকেন, গান শোনেন ও বই পড়েন। অন্যদিকে কেয়া পায়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় এবং সিনেমার ‘অনামিকা’ চরিত্রটিও সে রকম হওয়ায় এই দুটি চরিত্রের জন্য সঠিক অভিনয়শিল্পী বাছাই হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
দেশের ওটিটি মাধ্যমে অনেক দিন পর আরিফিন শুভ অভিনীত কোনো কাজ আসতে যাচ্ছে। যদিও এই চিত্রনায়কের কাছে প্রতিটি কাজই যেন নতুন করে ফিরে আসা এবং প্রতিটিতেই থাকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। ভক্তরা তাকে পর্দায় আরও বেশি দেখতে চান, কিন্তু সব সময় সেই ইচ্ছা পূরণ হয় না উল্লেখ করে তিনি সবাইকে চলচ্চিত্রটি দেখার আহ্বান জানান। অন্যদিকে এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে কেয়া পায়েল প্রথমবারের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পেলেন। এটিকে চমৎকার একটি সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, গল্পটি সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি নির্মাতা জাহিদ প্রীতম, সহশিল্পী আরিফিন শুভ এবং চরকি ও ছবিয়ালের সম্পৃক্ততা ছিল, যার ফলে এমন কাজের সঙ্গে যে কেউ যুক্ত হতে চাইবে।
চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, এটি এই সময়ের চমৎকার একটি গল্প। মানুষ তার চারপাশের নানা বিষয় নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন থাকে যে নিজের জীবন উপভোগ করতে ভুলে যায়, তাই এই সিনেমা দর্শককে নিজেদের মতো করে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে। সহ-প্রযোজক প্রতিষ্ঠান ছবিয়ালের পক্ষে নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন, প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে তার মনে হয়েছে এটি অন্যদেরও ভালো লাগবে এবং তারা নিজেদের অনুভূতির সঙ্গে গল্পের মিল খুঁজে পাবেন। মিনিস্ট্রি অফ লাভ প্রজেক্টের সপ্তম এই চলচ্চিত্রে আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল ছাড়াও অভিনয় করেছেন সালাউদ্দিন লাভলু, তুষার খান, দীপা খন্দকার, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, উম্মে জামিলাতুন নাঈমা, পারভেজ সুমন এবং টুইংক ক্যারল।