আজ ১৩ জানুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় হয়তো দিনটি খুব সাধারণই মনে হয়। কিন্তু দিনটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক নরম, উষ্ণ বার্তা— স্বপ্ন দেখো, আর সেই স্বপ্নকে একটু সাহস করে ছুঁয়ে দেখো। এই দিনটির নামই তাই ‘মেক ইয়োর ড্রিম কাম ট্রু ডে’।
এই দিবসটি কোনো রাষ্ট্রীয় ছুটি নয়, নেই বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা। তবু এটি মানুষের মনের ভেতরের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গাটায় নরমভাবে কড়া নাড়ে— যেখানে জমে থাকে অপূর্ণ স্বপ্ন, বলা না-হওয়া ইচ্ছেগুলো।
স্বপ্ন— বড় হতে হয় না, নিজের হতে হয়
স্বপ্ন মানেই কি বড় কিছু? বিদেশে পড়াশোনা, নিজের ব্যবসা, সিনেমা বানানো বা আকাশ ছোঁয়া ক্যারিয়ার?
না।
কারও স্বপ্ন হতে পারে সকালে উঠে পাঁচ মিনিট নিজের জন্য চা খাওয়ার সময় পাওয়া। কারও স্বপ্ন সপ্তাহে একদিন মায়ের সঙ্গে বসে গল্প করা। আবার কারও স্বপ্ন পুরোনো ডায়েরিটা খুলে আবার লেখা শুরু করা।
এই দিবসটি মনে করিয়ে দেয়— স্বপ্নের আকার নয়, সত্যিটাই আসল।
‘একদিন করব’— এই একদিনটাই কি আজ?
আমরা প্রায়ই বলি,
‘একদিন জিমে যাব।’
‘একদিন বইটা লিখব।’
‘একদিন নিজেকে সময় দেব।’
এই দিবস যেন আলতো করে প্রশ্ন করে—
‘একদিন’ বলতে কি আজকেই বোঝানো যায় না?
পুরো স্বপ্ন পূরণ না হোক, আজ যদি ছোট্ট একটা ধাপও নেওয়া যায়— তাহলেই দিনটির সার্থকতা।
স্বপ্ন পূরণের শুরু হয় ছোট সিদ্ধান্তে
সেই কোর্সটার খোঁজ নেওয়া,
পুরোনো বন্ধুকে একটা মেসেজ পাঠানো,
ভয়টাকে স্বীকার করে বলা— ‘আমি চেষ্টা করব’,
‘মেক ইয়োর ড্রিম কাম ট্রু ডে’ আমাদের শেখায়, স্বপ্ন এক দিনে পূরণ হয় না, কিন্তু শুরুটা এক দিনেই হয়।
আজ একটু নিজের দিকে তাকাই
এই দিনে কোনো কেক কাটার দরকার নেই। দরকার নেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় ঘোষণারও।
আজ শুধু নিজেকে জিজ্ঞেস করলেই যথেষ্ট—
‘আমি আসলে কী চাই?’
‘কোন স্বপ্নটা আমি নিজেই অবহেলা করছি?’
উত্তর পেলেই হলো। বাকি পথ ধীরে ধীরে তৈরি হবে।
শেষ কথা
১৩ জানুয়ারি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা নয়, এটা বেঁচে থাকার সাহস।
হয়তো আজই স্বপ্ন পূরণ হবে না।
কিন্তু আজ যদি স্বপ্নটার দিকে এক পা এগোনো যায়—
তাহলেই মেক ইয়োর ড্রিম কাম ট্রু ডে সত্যিই পূর্ণতা পায়।