Wednesday 14 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মাথার ভেতর জিমন্যাস্টিকস: লজিক পাজল ডে-তে বুদ্ধির আনন্দ

ফারহানা নীলা স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩১

যে দিনটিতে মাথা একটু বেশি চুলকায়, কলমের ডগায় থামে চিন্তা আর কফির কাপে ঠান্ডা পড়ে— সে দিনটি হলো লজিক পাজল ডে (Logic Puzzle Day)। প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিক নয়, কিন্তু বেশ মজা করেই পালিত হয় এই দিনটি। কোনো ফিতা কাটা নেই, নেই মঞ্চের আলো— তবু মানুষের মস্তিষ্কে এই দিন চলে এক নিঃশব্দ উৎসব।

লজিক পাজল ডে মূলত তাদের জন্য, যারা প্রশ্ন ভালোবাসেন, ‘কেন’ জানতে চান এবং সহজ উত্তর মানতে নারাজ। সুডোকু, ক্রসওয়ার্ড, রিডল, ম্যাথ পাজল কিংবা সেই চিরচেনা প্রশ্ন ‘দুটি দরজা, একটি সত্য বলে, একটি মিথ্যা’ সবই এই দিনের নায়ক।

পাজলের প্রেমে মানুষ কেন পড়ে?

মানুষের মস্তিষ্ক অলস থাকতে পছন্দ করে না। গবেষণা বলছে, নিয়মিত লজিক পাজল সমাধান করলে মেমোরি শক্তিশালী হয়, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ে এবং মানসিক চাপও কমে। তাই হয়তো মোবাইল স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ কেউ থেমে যায় একটি ধাঁধায়—আর তারপর সময় কোথায় গেল, নিজেই টের পায় না।

বিজ্ঞাপন

শিশুদের ক্ষেত্রে পাজল শেখায় ধৈর্য, আর বড়দের ক্ষেত্রে এটি হয়ে ওঠে এক ধরনের মানসিক ব্যায়াম। অনেকেই মজা করে বলেন, ‘জিমে শরীরের কসরত, আর পাজলে মস্তিষ্কের।’

কাগজ থেকে স্মার্টফোন পাজলের বিবর্তন

এক সময় লজিক পাজল মানেই ছিল খবরের কাগজের শেষ পাতা। সকালের চায়ের সঙ্গে ক্রসওয়ার্ড, দুপুরে সুডোকু— এই ছিল রুটিন। সময় বদলেছে। এখন পাজল আছে স্মার্টফোনে, অ্যাপে, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার স্টোরিতেও।
তবু পুরোনো দিনের সেই পেন্সিল দিয়ে কাগজে কাটাকাটি করার আনন্দ এখনো অনেকের কাছে অমলিন। ভুল হলে ইরেজার, ঠিক হলে ছোট্ট এক বিজয়ের হাসি—ডিজিটাল স্ক্রিন তা পুরোপুরি দিতে পারে না।

মজার হলেও ভীষণ সিরিয়াস!

লজিক পাজল শুনতে খেলাধুলার মতো লাগলেও এর ব্যবহার কিন্তু বেশ গম্ভীর জায়গায়। চাকরির পরীক্ষায়, আইকিউ টেস্টে, এমনকি গোয়েন্দা প্রশিক্ষণেও লজিক্যাল থিংকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পাজল ডে শুধু সময় কাটানোর অজুহাত নয়, বরং নিজের চিন্তাশক্তি যাচাই করার সুযোগ।

অনেকে আবার পাজলকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন— ‘আজ পাঁচ মিনিটে সমাধান করব’, ‘আজ একটাও হিন্ট নেব না।’ ফল যা-ই হোক, চেষ্টা করার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আনন্দ।

এই দিবসের জন্মকথা

লজিক পাজল ডে কোনো জাতিসংঘ ঘোষিত দিবস নয়। এটি মূলত ধাঁধা প্রেমী কমিউনিটি ও শিক্ষা সংক্রান্ত উদ্যোগ থেকে জনপ্রিয় হয়েছে। বছরের শুরুতে— যখন সবাই নতুন রেজোলিউশনে ব্যস্ত— ঠিক তখনই এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেরও ব্যায়াম দরকার।

কেন পাজল ভালো?

বিজ্ঞান বলছে, নিয়মিত লজিক পাজল সমাধান করলে—
মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে,
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত হয়,
মানসিক চাপ কমে
বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে,
তাই লজিক পাজল কেবল সময় কাটানোর খেলা নয়; এটি এক ধরনের মানসিক স্বাস্থ্যচর্চাও।

বাংলাদেশি বাস্তবতায় লজিক পাজল

আমাদের দেশে ‘ধাঁধা’ নতুন কিছু নয়। ছোটবেলায় শোনা—
‘এক মাটির ঘরে দুই ভাই, এক ভাই যায় এক ভাই আসে’— এই ধাঁধার মধ্যেও লুকিয়ে ছিল যুক্তির খেলা। আজকের সুডোকু বা ব্রেইন টিজার আসলে সেই লোকজ ধাঁধার আধুনিক সংস্করণ।

শহরে এখন মোবাইল অ্যাপ, পত্রিকার পাজল পাতা আর অনলাইন কুইজে ভরে গেছে যুক্তির দুনিয়া। আবার গ্রামে বিকেলের আড্ডায় এখনো কেউ না কেউ বলে ওঠে— ‘একটা ধাঁধা বলি?’ অফিস থেকে ক্লাসরুম— সবখানেই পাজল।

অনেক স্কুলে এখন পড়াশোনার পাশাপাশি লজিক পাজলকে শেখার অংশ করা হচ্ছে। কর্পোরেট অফিসেও টিম বিল্ডিংয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রেইন টিজার। কারণ, ভালো কর্মী মানেই শুধু দ্রুত কাজ করা নয়; ভালো কর্মী মানে ভালোভাবে ভাবতে পারা মানুষ।

আজ কী করবেন?

লজিক পাজল ডে মানে বড় আয়োজন নয়। আজ আপনি—
সকালে এক কাপ চায়ের সঙ্গে একটি সুডোকু মিলাতে পারেন,
বন্ধুদের গ্রুপে একটা ধাঁধা ছুড়ে দিতে পারেন,
সন্তানের সঙ্গে বসে ‘কে আগে সমাধান করে’ খেলতে পারেন,
অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে পারেন— ‘আজ মাথা খাটানোর দিন!’

শেষ কথায়

লজিক পাজল ডে আমাদের মনে করিয়ে দেয়— সব সমস্যার সমাধান জোরে নয়, যুক্তিতে। জীবনের অনেক জট খুলতে দরকার হয় ঠিক তেমনই ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ আর একটু ভিন্নভাবে ভাবার ক্ষমতা— যা আমরা শিখি একটি ছোট ধাঁধা সমাধান করতে গিয়েই।

তাই আজ অন্তত একবার থামুন, ভাবুন, মিলিয়ে দেখুন। কারণ, মস্তিষ্কও চায় খেলার সুযোগ।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর