আজ ১৭ জানুয়ারি— Kid Inventors’ Day, অর্থাৎ শিশু উদ্ভাবক দিবস। দিনটি প্রমাণ করে, বড় কোনো আবিষ্কারের জন্য বয়স নয়, দরকার শুধু কৌতূহল, সাহস আর ‘কেন এমন?’ প্রশ্ন করার মানসিকতা।
যখন বড়রা সমস্যার জটিল সমাধান খুঁজে ফেরেন, তখন অনেক সময় শিশুরা এক লাইনের আইডিয়াতেই সমাধান এনে দেয়। কারণ তাদের কল্পনার ডানায় বাধা নেই, ভয় নেই ব্যর্থতার।
কেন ১৭ জানুয়ারি?
এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে বিখ্যাত মার্কিন বিজ্ঞানী বেনজামিন ফ্র্যাংকলিনের জন্মদিনে। মজার বিষয় হলো— ফ্র্যাংকলিন তার প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন মাত্র ১২ বছর বয়সে! সাঁতারের সময় হাতের নড়াচড়া বাড়াতে তিনি বানিয়েছিলেন কাঠের ফিন— যা আজকের আধুনিক সাঁতার উপকরণের প্রাথমিক ধারণা।
অবাক করা কিছু শিশু উদ্ভাবক
শিশুদের উদ্ভাবন শুধু খেলনা বা স্কুল প্রজেক্টেই সীমাবদ্ধ নয়— অনেক আবিষ্কার বদলে দিয়েছে বিশ্ব …
ব্রেইল লিপি— এর ধারণা আসে এক কিশোরের হাত ধরে,
ট্রাম্পোলিন— উদ্ভাবনের সময় উদ্ভাবকের বয়স ছিল কিশোর,
ইয়ারমাফ (কানের ঠান্ডা রোধকারী)— ১৫ বছর বয়সী এক ছেলের মাথা থেকেই আসে।
আধুনিক যুগে শিশুদের তৈরি পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক বিকল্প, ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ, এমনকি ক্যান্সার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি পর্যন্ত আলোচনায় এসেছে।
শিশুদের ভাবনা এত আলাদা কেন?
কারণ তারা প্রশ্ন করে নির্দ্বিধায়—
‘এটা এমন কেন?’
‘আর সহজভাবে করা যায় না?’
‘এভাবে করলে কী হবে?’
বড়রা যেখানে নিয়মে আটকে যান, শিশুরা সেখানে কল্পনার রাস্তা খোঁজে।
শুধু উদ্ভাবন নয়, ভবিষ্যতের আত্মবিশ্বাস
Kid Inventors’ Day শুধু আবিষ্কার উদযাপনের দিন নয়, এটি শিশুদের ভাবনার মূল্য দেওয়ার দিন। একটি ছোট উৎসাহ, একটি বাহবা, কিংবা ‘চেষ্টা করে দেখো’— এই কথাগুলোই একজন শিশুকে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী বা সমাজ পরিবর্তকের পথে এগিয়ে দিতে পারে।
আজকের দিনে করণীয় (মজারভাবে!)
শিশুর আজব আইডিয়াকে ‘পাগলামি’ না বলে শুনে ফেলুন,
তাদের প্রশ্নের উত্তর না জানলে একসাথে গুগল করুন,
পুরোনো কার্টন, বোতল, কাগজ দিয়ে বানাতে দিন নতুন কিছু আর সবচেয়ে জরুরি— ভুল করলেও বলুন, ‘চেষ্টা করাটাই বড় কথা’
শেষ কথা
বিশ্ব বদলানোর আইডিয়া অনেক সময় বড় কোনো ল্যাবে নয়, জন্ম নেয় ছোট্ট একটি মাথায়। আজ শিশু উদ্ভাবক দিবসে মনে করিয়ে দেয়— আগামী দিনের পৃথিবী গড়ার নকশা হয়তো আজই কোনো শিশুর খাতায় আঁকা হচ্ছে।