জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ওয়েব সংস্করণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এখন থেকে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের ব্রাউজার ব্যবহার করেই সরাসরি গ্রুপ ভয়েস ও ভিডিও কল করা যাবে। মেটা মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েব ইউজারদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও পেশাদার করতে এই ফিচার নিয়ে কাজ করছে।
প্রযুক্তি বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ডব্লিউএবেটাইনফো’ (WABetaInfo)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবে যুক্ত হতে যাওয়া এই ফিচারগুলো মূলত প্রফেশনাল মিটিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাবে…
৩২ জনের গ্রুপ কল: মোবাইলের মতো ওয়েব ভার্সনেও গ্রুপ কলে সর্বোচ্চ ৩২ জন অংশগ্রহণকারী যুক্ত হতে পারবেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ থেকে ১৬ জনকে নিয়ে এটি রোলআউট করা হতে পারে।
কল লিঙ্ক সুবিধা (Call Links): এখন থেকে ব্রাউজার থেকেই একটি শেয়ারযোগ্য লিঙ্ক তৈরি করা যাবে। জুম বা গুগল মিটের মতো এই লিঙ্ক পাঠিয়ে যে কাউকেই কলে আমন্ত্রণ জানানো যাবে, এমনকি তারা চ্যাটে সরাসরি সক্রিয় না থাকলেও।
কল শিডিউলিং (Call Scheduling): মিটিং বা অনলাইন ইভেন্টের জন্য নির্ধারিত সময় আগেভাগেই সেট করা যাবে। কলের নাম, বিবরণ এবং শুরুর সময় দিয়ে একটি ‘ইভেন্ট’ তৈরি করা যাবে, যা অংশগ্রহণকারীদের আগাম প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে অফিসিয়াল বা প্রফেশনাল ভিডিও কনফারেন্সের জন্য জুম কিংবা গুগল মিট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন সংযোজন বড় বড় টিম বা অফিসের ছোটখাটো মিটিং পরিচালনার চিত্র বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা বারবার মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার না করে ব্রাউজারেই কাজ সারতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ নিশ্চিত করেছে যে, মোবাইল অ্যাপের মতো ওয়েব ভার্সনের কলগুলোও ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’ থাকবে। অর্থাৎ কল দাতা ও গ্রহণকারী ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষ এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও এই কথোপকথন শুনতে বা দেখতে পারবে না।
বর্তমানে এই ফিচারগুলো উন্নয়নের (Development) পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই বেটা পরীক্ষকদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাদের ব্রাউজার থেকেই নির্বিঘ্নে গ্রুপ কলিং সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
মূলত ব্যক্তিগত চ্যাটিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ এখন নিজেকে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ও মিটিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে হাঁটছে। ব্রাউজারে গ্রুপ কলিং ও শিডিউলিং সুবিধা চালু হলে এটি ব্যবহারকারীদের ল্যাপটপ বা পিসি ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও একীভূত ও সহজ করবে।