Thursday 16 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জুমার দিনের গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং এর ধর্মীয় বিধি-নিষেধ

সারাবাংলা ডেস্ক
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫২

‎সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ দিন ও রাতের আবর্তনের মাঝে কিছু সময়কে দিয়েছেন অনন্য মর্যাদা। সপ্তাহের সব দিনের মধ্যে জুমার দিন সবচেয়ে বেশি বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই দিনের বিশেষ গুরুত্ব প্রমাণিত।

‎মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জুমার দিনের পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন…

‎১. এই দিনে প্রথম মানব হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়।

‎২. এই দিনেই তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়।

‎৩. এই দিনেই তার ওফাত (মৃত্যু) হয়েছিল।

‎৪. জুমার দিন এমন একটি বরকতময় মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দা কোনো বৈধ জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।

‎৫. এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)

বিজ্ঞাপন

‎জুমার দিনের নিষিদ্ধ ও বর্জনীয় কাজসমূহ

‎জুমার দিন যেমন নেকি অর্জনের বসন্তকাল, ঠিক তেমনি এই দিনে কিছু অসতর্ক কাজের কারণে সওয়াব নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আমাদের সমাজে প্রচলিত এমন কিছু নিষিদ্ধ কাজ নিচে তুলে ধরা হলো…

‎আজানের পর জাগতিক কাজে মগ্ন থাকা

‎জুমার আজান হওয়ার পর যেকোনো ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বা পার্থিব কাজ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা বুঝতে।’ (সূরা জুমুআ, আয়াত: ৯)

‎এখানে ‘বেচাকেনা’ বলতে জীবনের যাবতীয় বৈষয়িক ব্যস্ততাকেই বোঝানো হয়েছে।

‎‎মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া

‎খুতবা চলাকালীন সময়ে বা মসজিদে দেরিতে এসে অন্যদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যাওয়া নিষেধ। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে এভাবে সামনে এগোতে দেখে বললেন— ‘তুমি বসো, তুমি মানুষকে কষ্ট দিচ্ছ।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১১১৮)

‎খুতবার সময় হাঁটু গুটিয়ে বসা

‎খুতবা চলাকালে দুই হাঁটু খাড়া করে হাত দিয়ে পেঁচিয়ে বসা (যাকে আরবিতে ‘ইহতেবা’ বলা হয়) জায়েজ নয়। নবীজি (সা.) জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালীন এই ভঙ্গিতে বসতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ১১১০)

‎খুতবা চলাকালীন মনোযোগ নষ্ট করা (কথা বলা বা মোবাইল চালানো): ইমামের খুতবা শোনার সময় পূর্ণ নীরবতা অবলম্বন করা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা, মোবাইল স্ক্রল করা বা মেসেজ চেক করার মতো অনর্থক কাজ জুমার সওয়াব নষ্ট করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— খুতবা চলাকালে কাউকে যদি ‘চুপ করো’ বলেও থামানো হয়, তবে তাও অনর্থক কাজের শামিল। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯৩৪)

‎খুতবা শোনার সময় ঘুমানো

‎ খুতবার মূল শিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তন্দ্রা বা ঘুম বাধা সৃষ্টি করে, এমনকি এতে অজু ভঙ্গেরও সম্ভাবনা থাকে। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— মসজিদে কারও ঘুম বা ঝিমুনি আসলে সে যেন তার বসার জায়গা পরিবর্তন করে নেয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১১১৯)

‎শুধু শুক্রবারকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করা

‎আগে বা পরের দিন না মিলিয়ে এককভাবে শুধু জুমার দিন রোজা রাখা উচিত নয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার আগের বা পরের দিনকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু জুমার দিন রোজা রেখো না। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৯৮৫)

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি