ঈদের ছুটি কিংবা টানা অবকাশে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা বা পাহাড়-সমুদ্রে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বাইকারদের প্রথম পছন্দ এখন হাইওয়ে। কিন্তু মহাসড়কের রোমাঞ্চ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হতে পারে ছোট কিছু ভুলের কারণে।
নিরাপদ রাইডিংয়ের জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি সেগুলো হলো …
গতির নেশায় নিয়ন্ত্রণ হারানো
ফাঁকা হাইওয়ে পেলেই অনেকে বাইকের এক্সিলারেটর বাড়িয়ে দেন। মনে রাখবেন, উচ্চগতি মানেই রিঅ্যাকশন টাইম কমে যাওয়া। গতির চেয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ছুটির মৌসুমে পুলিশি তৎপরতা ও স্পিড গানের ব্যবহার বেশি থাকে, তাই অহেতুক মামলা বা দুর্ঘটনা এড়াতে গতিসীমা মেনে চলুন।
মানহীন হেলমেট ও গিয়ার ব্যবহার
শহরের ভেতর ছোটখাটো হেলমেট চললেও হাইওয়ের জন্য প্রয়োজন উন্নত মানের সার্টিফাইড ফুল-ফেস হেলমেট। শুধু হেলমেট নয়, হাত ও পায়ের সুরক্ষায় ভালো মানের গ্লাভস, রাইডিং জ্যাকেট এবং বুট জুতো নিশ্চিত করুন। এগুলো কেবল ফ্যাশন নয়, বিপদের সময় আপনার হাড় ও চামড়াকে রক্ষা করবে।
বড় গাড়ির সাথে পাল্লা দেওয়া
বাস বা ট্রাকের পাশে হঠাৎ লেন পরিবর্তন করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বড় গাড়ির ‘ব্লাইন্ড স্পট’ থাকে, যেখান থেকে আপনাকে দেখা যায় না। হাইওয়েতে ওভারটেকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে এবং সংকেত দিয়ে নিজের লেনে স্থির থাকার চেষ্টা করুন।
যান্ত্রিক ত্রুটি উপেক্ষা করা
যাত্রার দিন সকালে বাইক চেক করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অন্তত দুই দিন আগেই টায়ার প্রেশার, চেইন লুব্রিকেন্ট, ব্রেক প্যাড এবং ইঞ্জিন অয়েলের অবস্থা ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। ছোট কোনো যান্ত্রিক সমস্যা নিয়ে কখনোই লং রাইডে বের হবেন না।
বিরতিহীন রাইডিংয়ের জেদ
একটানা বাইক চালালে শরীর ও মস্তিষ্ক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যা আপনার মনোযোগ কমিয়ে দেয়। প্রতি ৫০-৭০ কিলোমিটার বা ১ ঘণ্টা পর পর বাইক থামিয়ে বিশ্রাম নিন। প্রচুর পানি বা স্যালাইন পান করে নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন; এটি আপনাকে সজাগ রাখতে সাহায্য করবে।
বাইককে মালবাহী ট্রাক বানানো
প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাগ বা মালামাল বাইকের ব্যালেন্স নষ্ট করে দেয়। চেষ্টা করুন ওজনে হালকা এবং জরুরি জিনিসপত্র সাথে নিতে। পেছনে অতিরিক্ত মালামাল বা বাচ্চা নিয়ে হাইওয়েতে রাইড করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মালামাল বাঁধার জন্য উন্নত মানের বাঞ্জি কর্ড ব্যবহার করুন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস না মানা
আকাশ দেখে যাত্রা শুরু করা এখন সেকেলে পদ্ধতি। বের হওয়ার আগে আবহাওয়া অ্যাপে ঝড়-বৃষ্টির খবর দেখে নিন। সাথে অবশ্যই ভালো মানের রেইনকোট রাখুন। বৃষ্টি শুরু হলে জেদ করে না চালিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন, কারণ ভেজা রাস্তায় বাইকের গ্রিপ অনেক কমে যায়।