পৃথিবীতে অদ্ভুত আর খামখেয়ালি দিবসের অভাব নেই। কোনো দিন উৎসর্গ করা হয় বিশেষ কোনো খাবারকে, আবার কোনো দিন কেবলই অলসতা কাটানোর জন্য নির্দিষ্ট থাকে। তবে বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে যদি শুধু আপনার নামের কারণেই পুরো বিশ্ব আপনাকে একটু আলাদা নজরে দেখে, তবে কেমন লাগবে? আজ ১৭ জুন, তেমনই এক খামখেয়ালি অথচ দারুণ মজার দিন। আজ ‘জেরাল্ড ডে’ বা জেরাল্ড নামের মানুষদের বিশেষ দিন।
নামের ভেতরেই লুকিয়ে থাকা এক অন্যরকম আভিজাত্য
জেরাল্ড শব্দটির ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং গৌরবময়। জার্মান শব্দ ‘জেরওয়াল্ড’ থেকে এই নামের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো ‘বর্শার শাসক’ বা ‘পরাক্রমশালী যোদ্ধা’। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, মধ্যযুগে ইউরোপের বিভিন্ন রাজপরিবার এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এই নামের বেশ দাপট ছিল। পরবর্তীতে অ্যাংলো-নরম্যানদের হাত ধরে এই নাম আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু রাজকীয় ইতিহাস পেরিয়ে আধুনিক পপ-কালচারে এসে এই নামটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত খামখেয়ালি আমেজ, যা এই দিবসটির মূল ভিত্তি।
আমেরিকার ৩৮তম প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড থেকে শুরু করে বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক ও প্রকৃতিবিদ জেরাল্ড ডুরেল, সবাই এই নামটিকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছেন। তাই খামখেয়ালির আড়ালে এই নামের গভীরতা কম নয়।
খিটখিটে স্বভাবের এক অদ্ভুত সামাজিক মেলবন্ধন
বিশ্বজুড়ে এই অনানুষ্ঠানিক দিবসটি উদযাপনের পেছনে কোনো বড় রাজনৈতিক কারণ নেই। মূলত ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বিভিন্ন ইন্টারনেট ফোরাম এবং গ্লোবাল কমিউনিটি কালচারের অংশ হিসেবে এই দিনের চল শুরু হয়। পশ্চিমা পপ-কালচারে ও মেমে-দুনিয়ায় রসিকতা করে মনে করা হয়, ‘জেরাল্ড’ নামের মানুষেরা একটু বেশি খামখেয়ালি, একগুঁয়ে এবং কিছুটা খিটখিটে স্বভাবের হন। তবে এই খিটখিটে স্বভাবকে নেতিবাচকভাবে না দেখে, একে এক ধরণের উৎসবের রূপ দেওয়া হয়েছে। আজকের দিনে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের জেরাল্ডরা নিজেদের এই চমৎকার স্বভাবটিকে উদযাপন করেন এবং একে অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
যেভাবে কাটে জেরাল্ডদের এই বিশেষ দিনটি
অন্য দুনিয়ায় আজকের দিনে এই নামের ব্যক্তিরা বেশ সক্রিয় থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নাম নিয়ে বিভিন্ন মজার পোস্ট দেওয়া, নিজেদের কোনো খিটখিটে বা মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করা এই দিনের অন্যতম ট্রেন্ড। অনেক দেশে এই নামের বন্ধুরা একসাথে হয়ে কফি শপে আড্ডা দেন কিংবা নিজেদের নামের বিশেষ কোনো স্মারক উপহার দেন। আর যাদের নাম জেরাল্ড নয়, তারা তাদের পরিচিত জেরাল্ড নামের বন্ধু বা সহকর্মীকে আজকের দিনে একটু বাড়তি খাতির করেন, তাকে শুভেচ্ছা জানান কিংবা তার কোনো খামখেয়ালি আচরণকে হেসেই উড়িয়ে দেন।
আধুনিক লাইফস্টাইলে অফবিট দিবসের জনপ্রিয়তা
নামের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই ধরনের দিবসগুলো মানুষকে একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণ ঝড়ের সৃষ্টি করে। আজকের দিনেও ‘Gerald Day’ লিখে সার্চ করার প্রবণতা ইন্টারনেটে বেশ লক্ষণীয়।
আপনার পরিচিত গণ্ডিতে যদি কোনো ‘জেরাল্ড’ থেকে থাকেন, তবে আজই তাকে চটপট শুভেচ্ছা জানিয়ে দিন। আর যদি কেউ না-ও থাকে, তবে নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এমন চমৎকার ও মজার আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি উপভোগ করার আনন্দ তো যেকোনো সাধারণ পাঠকের জন্যই অনন্য।