Sunday 14 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল’: কোন হাটে বিকোচ্ছে বিশ্বকাপের জার্সি?

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৪ জুন ২০২৬ ১৬:২৯

মাঠে বল গড়ানোর আগেই বাঙালির ঘরের ড্রয়িংরুম আর পাড়ার চায়ের দোকানে ঝড় উঠেছে। বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই তো চার বছর পর পর বাঙালি ফুটবল-প্রেমের সেই চিরচেনা বিস্ফোরণ। আর এই উন্মাদনার প্রথম এবং প্রধান অনুষঙ্গ হলো নিজের পছন্দের দলের জার্সি গায়ে জড়ানো। আপনি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি নাকি পর্তুগালের সমর্থক, তা মাঠে খেলা শুরুর আগেই জানান দিতে হবে পোশাকের রঙে।

বর্তমানে জমজমাট বিশ্বকাপকে ঘিরে ঢাকার জার্সির বাজারগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। যারা এখনো নিজের সাধের জার্সিটি কিনতে পারেননি বা মনের মতো করে বানিয়ে নিতে চান, তাদের জন্য রইল ঢাকার জার্সির বাজারের হালহকিকত।

বিজ্ঞাপন

যেখানে পাবেন পছন্দের জার্সি

ঢাকার অলিতে-গলিতে জার্সি পাওয়া গেলেও কিছু নির্দিষ্ট জায়গা এখন ফুটবল ভক্তদের প্রধান তীর্থস্থান।

গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্স: সস্তায় এবং পাইকারি দামে জার্সি কেনার সবচেয়ে বড় স্বর্গরাজ্য হলো গুলিস্তান। এখানকার দোতলা-তিনতলার দোকানগুলোতে এখন শুধু রঙ-বেরঙের জার্সির মেলা। এছাড়া কাস্টমাইজড বা নিজেদের মতো করে জার্সি বানানোর অর্ডারও নেওয়া হচ্ছে এখানে।

নিউমার্কেট ও চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট: মধ্যবিত্তের পছন্দের তালিকায় সবসময় এগিয়ে নিউমার্কেট। সব বয়সীদের এবং বিশেষ করে শিশুদের কাস্টমাইজড ফুল সেট (জার্সি ও শর্টস) এখানে প্রচুর মিলছে।

টুইন টাওয়ার, মৌচাক ও ঢাকার নামী স্পোর্টস শপ: যারা একটু প্রিমিয়াম কোয়ালিটির থাই ফেব্রিক্সের জার্সি খুঁজছেন, তারা উত্তরার পল্টন স্পোর্টস, কিংবা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল যেমন- CleatsBD, দারাজ বা ফেসবুকের বিভিন্ন নামী স্পোর্টস পেজগুলোতে ঢুঁ মারছেন।

দরদাম: পকেটের মাপ বুঝে জার্সি

ফেব্রিক্স আর মেকিং কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে জার্সির দামে রয়েছে রকমফের। বাজারে মূলত তিন ধরনের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে …

ফ্যান এডিশন – সাধারণ পলিয়েস্টার বা একটু হালকা কাপড়ের, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক। ৩০০ – ৭০০ টাকা

প্লেয়ার এডিশন – অ্যাথলেটিক ফিট, কাপড় বেশ প্রিমিয়াম (থাই ফেব্রিক্স), ঘাম শোষণকারী এবং লোগোগুলো নিখুঁত। ৯৫০ – ২,০০০ টাকা।

কিডস ফুল সেট – ছোটদের জন্য হাফ হাতা বা ফুল হাতা জার্সি ও প্যান্টের পুরো সেট। ৪৫০ – ১,২০০ টাকা

মজার তথ্য: গুলিস্তানের কিছু পাইকারি দোকানে যদি আপনি পুরো পাড়ার বা বন্ধুদের গ্রুপের জন্য একসাথে অনেক জার্সি (যেমন ২০-৩০ পিস) কিনতে যান, তবে ফ্যান এডিশন জার্সি পিস প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেও নামিয়ে আনা সম্ভব!

মনের মতো বানিয়ে নেওয়ার ধুম (কাস্টমাইজেশন)

দোকানের রেডিমেড জার্সি গায়ে ঠিকমতো ফিট হচ্ছে না? কিংবা জার্সির পেছনে নিজের নাম আর পছন্দের ‘১০’ বা ‘৭’ নম্বর জার্সিটি লিখে নিতে চান? কোনো চিন্তা নেই। ঢাকার কেরানীগঞ্জ, গুলিস্তান এবং সাভারের বিভিন্ন লোকাল জার্সি ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাক্টরি ও টেইলার্সগুলো এখন দিনরাত পার করছে।

নিজস্ব লোগো, পাড়ার ক্লাবের নাম বা বন্ধুদের গ্রুপে বিশেষ কোনো স্লোগান দিয়ে জার্সি বানিয়ে নেওয়ার জন্য ডিজিটাল সাবলিমেশন প্রিন্টিংয়ের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব ডিজাইনে কাপড় ও প্রিন্ট ভেদে এক একটি জার্সি বানাতে খরচ পড়ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা। তবে এর জন্য কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ পিসের অর্ডার দিতে হয়।

কেনাকাটার কিছু টুকটাক টিপস

একটু দেখেশুনে নেওয়া: গুলিস্তান বা নিউমার্কেটের ভিড়ে কেনার সময় জার্সির সেলাই এবং প্রিন্ট ঠিক আছে কিনা ভালো করে দেখে নিন। অনেক সময় তাড়াহুড়োয় লোগো বাঁকা বা সাইজ ভুল হতে পারে।

অনলাইন বনাম অফলাইন: অনলাইনে ঘরে বসে অর্ডার করা আরামদায়ক হলেও কাপড়ের ফেব্রিক্স ছুঁয়ে দেখতে চাইলে অফলাইন মার্কেটের বিকল্প নেই।

ধোয়ার নিয়ম: প্লেয়ার এডিশনের জার্সির লোগো ও স্টিকারগুলো সাধারণত হিট প্রেস করা থাকে। তাই ওয়াশিং মেশিনে কড়া কাচাকাচি না করে, হালকা শ্যাম্পু পানিতে ধুয়ে নিলে জার্সি অনেকদিন নতুনের মতো থাকে।

আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা কিংবা ব্রাজিলের চিরচেনা হলুদ-সবুজ জার্সি যেটাই হোক না কেন, গায়ে জড়িয়ে প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটানোর আনন্দটাই আলাদা। তাহলে আর দেরি কেন, আজই সংগ্রহ করে নিন আপনার সাধের বিশ্বকাপ জার্সি!

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর