অ্যালার্মের সেই যান্ত্রিক শব্দ শুনে সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন তো নির্ধারিত কিছু ছকবাঁধা কাজ করতেই হয়। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, ক্যালেন্ডারের পাতার কোন একদিন যদি হঠাৎ এমন একটা অনুমতি মেলে, যেখানে কোনো বসের হুকুম নেই, সমাজের তৈরি নিয়ম নেই, কিংবা কোনো বাধ্যবাধকতা নেই? প্রতিদিনের রুটিন জীবনের সব অলিখিত নিয়ম এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে মন যা চায় ঠিক তা-ই করার এক অনন্য স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে আসে এই বিশেষ ভাবনার দিনটি। ৭ অক্টোবরের এই আমেজটি যেন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নিজের ভেতরের সুপ্ত সুকুমার বৃত্তি কিংবা একদম খামখেয়ালি কোনো ইচ্ছেকে আজ আর কোনোভাবেই আটকে রাখা যাবে না।
যা খুশি করার স্বাধীনতা আজ
আজ যদি হুট করেই মাথার ভেতর ভূত চাপে রান্নাঘরে ঢুকে পুরো উলটপালট করে একদম অদ্ভুত কোনো রেসিপি বানিয়ে ফেলার। এই দিনটিতে নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়াই মূল কথা। কোনো কঠিন কাজ যা এতদিন ধরে আলসেমি করে ফেলে রাখা হয়েছিল, কিংবা যে অ্যাডভেঞ্চারের স্বপ্ন এতদিন শুধু মনের গহীনেই আটকে ছিল, তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জাদুকরী লাইসেন্স হাত বাড়িয়ে দিনটিকে উপভোগ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
মনের ক্যানভাসে রঙের খেলা
মনোবিজ্ঞানীরা বরাবরই বলে আসছেন যে নিজের ইচ্ছেমতো বাঁধভাঙা কোনো কাজ করার মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ ও ‘সেরোটোনিন’ নামের আনন্দদায়ক হরমোনের ক্ষরণ বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিনের মানসিক ক্লান্তি, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং কাঠখোট্টা দায়িত্বের মাঝখানে এই ধরনের দিনগুলো এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মতো কাজ করে। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে নিয়ে ঘরের বারান্দায় বসে থাকা কিংবা প্রিয় কোনো পুরানো গান বারবার শোনার অতি সাধারণ ইচ্ছেটাও এই দিনে রাজকীয় রূপ লাভ করে।
আজই তো আসল সুযোগ
আজ তবে আর দ্বিধাদ্বন্দ্ব কিংবা অযথা ভাবনার কোনো সুযোগ নেই। ক্যালেন্ডারের দিনটিতে আপনি নিজেই আপনার জীবনের একমাত্র পরিচালক, যেখানে স্ক্রিপ্ট পরিবর্তনের পূর্ণ অধিকার শুধুই আপনার হাতে। জীবন তো একটাই, আর সেই জীবনের প্রতিদিনের হিসেবি খাতায় একটু খামখেয়ালি আমেজ যোগ করতে দোষ কোথায়? সুতরাং, সমাজের সব ব্যাকরণ দূরে সরিয়ে রেখে আজ নিজেকে জিজ্ঞেস করুন মন আসল কী চায়, আর কোনো দ্বিধা না রেখে ঠিক সেটাই করে ফেলুন।