পেট্রোলের আকাশছোঁয়া দামের বাজারে বাইকের মাইলেজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েননি এমন রাইডার খুঁজে পাওয়া ভার। নিয়মিত সার্ভিসিং কিংবা সাধের বাইকটির যত্ন নেওয়ার পরও যখন তেল গিলে খাওয়ার পরিমাণ কমে না, তখন মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে মেকানিকের কাছে ছোটার আগে নিজের রাইডিং স্টাইলটা একটু আয়নাতে দেখে নেয়া দরকার!
গতির সঙ্গে জ্বালানি খরচের সম্পর্ক
বাইকের গতির সঙ্গে জ্বালানি খরচের সরাসরি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইঞ্জিন যখন একটি নির্দিষ্ট ও স্থিতিশীল আরপিএম-এ (RPM) থাকে, তখন জ্বালানি সবচেয়ে কম খরচ হয়। গতি খুব কম হলে বা বারবার থ্রোটল বাড়িয়ে-কমিয়ে ড্রাইভ করলে যেমন বেশি তেল পোড়ে, তেমনই অত্যধিক গতিতে বাইক চালালেও জ্বালানির অপচয় বহুগুণ বেড়ে যায়। এই কারণেই বেশিরভাগ বাইকের স্পিডোমিটারে একটি ‘ইকোনমি স্পিড জোন’ (Economy Speed Zone) চিহ্নিত করা থাকে, যা সাধারণত সবুজ রঙের বর্ডার দিয়ে দেখানো হয়।
কোন গতিতে বাইক চালালে সবচেয়ে বেশি মাইলেজ পাওয়া যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ কমিউটার বাইক থেকে সর্বোচ্চ মাইলেজ পেতে হলে গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখা উচিত।
শহরের রাস্তায়: জ্যামের মাঝে বারবার গিয়ার বদলানোর চেয়ে একটি নির্দিষ্ট গতি বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
মহাসড়কে বা লম্বা দূরত্বে: অনেকে হাইওয়েতে উঠলেই ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি গতিতে রাইড করেন। এতে সাময়িকভাবে গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানো গেলেও ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় এবং তেল খরচ খুব দ্রুত বাড়ে। তাই লং ড্রাইভেও এই নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে চললে জ্বালানি দারুণভাবে সাশ্রয় হয়।
টু-হুইলার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ৪৫ থেকে ৫৫ কিমি প্রতি ঘণ্টার সঠিক গতি এবং নির্দিষ্ট আরপিএম বজায় রাখলেই বাইক থেকে সেরা মাইলেজ পাওয়া সম্ভব।
টাকা বাঁচানোর চাবিকাঠি আপনার ডান হাতের মুঠোতেই লুকিয়ে আছে! মেকানিকের কাছে গিয়ে অযথা পকেট খালি না করে রাইড করার সময় শুধু গতির এই সামান্য হিসাবটি মাথায় রাখুন। সঠিক গতি বজায় রেখে বাইক চালালে একদিকে যেমন পকেটের খরচ কমবে, অন্যদিকে আপনার সাধের বাইকটির ইঞ্জিনও ভালো থাকবে দীর্ঘদিন।