মা হওয়া শুধু একটি শারীরিক পরিবর্তনের গল্প নয়— এটি মানসিক প্রস্তুতি, জীবনযাপনের শৃঙ্খলা এবং সচেতনতার এক নতুন অধ্যায়। অনেকেই গর্ভধারণের পর স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবেন, অথচ চিকিৎসকদের মতে গর্ভধারণের আগের সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগেভাগে কিছু নিয়ম মেনে চললে মা ও ভবিষ্যৎ সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।
শারীরিক স্বাস্থ্য যাচাই করুন
মা হওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না তা পরীক্ষা
টিকাদান (রুবেলা, হেপাটাইটিস বি ইত্যাদি) হালনাগাদ করা, পূর্বের কোনো রোগ বা ওষুধের ইতিহাস জানানো।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভধারণের অন্তত ৩ মাস আগে থেকেই শরীর প্রস্তুত করা উচিত।
খাদ্যাভ্যাসে আনুন ইতিবাচক পরিবর্তন
‘যা খাবেন, তার প্রভাব পড়বে আপনার অনাগত সন্তানের ওপর’— এই কথাটি একেবারেই সত্য। তাই…
আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খান।
সবুজ শাকসবজি, ডাল, দুধ, ডিম, মাছ ও ফল রাখুন খাদ্যতালিকায়।
অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, সফট ড্রিংক ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন।
চিকিৎসকের পরামর্শে ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ভালো।
ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন
ধূমপান ও মদ্যপান গর্ভধারণে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
গর্ভধারণে সমস্যা, ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, ভবিষ্যতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি— পরিকল্পনার সময় থেকেই এগুলো সম্পূর্ণ পরিহার করাই নিরাপদ।
মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন
মানসিক চাপ ও উদ্বেগও গর্ভধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন,
নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম করুন,
নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন,
প্রয়োজনে কাউন্সেলরের সাহায্য নিন,
সুখী ও শান্ত মনই সুস্থ মাতৃত্বের প্রথম ধাপ।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত কম বা বেশি ওজন—দুটিই গর্ভধারণে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সুষম খাদ্য,
নিয়মিত ব্যায়াম,
হঠাৎ ডায়েট বা অনিয়ন্ত্রিত ওজন কমানো এড়িয়ে চলুন,
স্বাভাবিক বিএমআই (BMI) বজায় রাখা সবচেয়ে ভালো।
নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না
অনেক সাধারণ ওষুধও গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে।
ব্যথানাশক,
হরমোন জাতীয় ওষুধ,
হারবাল বা ‘ঘরোয়া’ ওষুধ,
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ নয়— এই নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলুন।
সঙ্গীর স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ
মা হওয়ার পরিকল্পনা শুধু নারীর একার বিষয় নয়।
সঙ্গীর ধূমপান, মদ্যপান অভ্যাস,
মানসিক চাপ,
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ,
সবকিছুই গর্ভধারণের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই দু’জনেরই স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরি।
শেষ কথা
মা হওয়া কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়— এটি ভালোবাসা, প্রস্তুতি ও দায়িত্বের সম্মিলিত রূপ। আগেভাগে সচেতন হলে মাতৃত্বের পথ হয় অনেক বেশি নিরাপদ ও আনন্দময়। আজকের ছোট যত্নই আগামীর সুস্থ প্রজন্মের প্রথম উপহার।