আনন্দের মুহূর্ত হোক কিংবা দুঃসময়ের ভার। একটি আন্তরিক আলিঙ্গন অনেক সময় কথার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষে মানুষে জড়িয়ে ধরার এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। বরং আদিমকাল থেকেই এটি আমাদের স্বাভাবিক আচরণের অংশ। যেমন প্রাণীরা নিজেদের মধ্যে স্পর্শের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তেমনি মানুষের ক্ষেত্রেও আলিঙ্গন নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের এক নিঃশব্দ ভাষা।
আমাদের ত্বকের নিচে থাকা বিশেষ স্নায়ুগ্রাহক হালকা স্পর্শে সক্রিয় হয়ে মস্তিষ্কে শান্তির বার্তা পাঠায়। ফলে কাউকে ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে ধরলে শরীরে অক্সিটোসিন বা ভালোবাসার হরমোন নিঃসৃত হয়। যা দুশ্চিন্তা কমিয়ে মনকে করে তোলে প্রশান্ত।
কতক্ষণ আলিঙ্গন, ততটাই উপকার
আলিঙ্গনের সময়কালও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি আলিঙ্গন মনকে সতেজ করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। আর ২০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে হৃদ্যন্ত্রকে স্বস্তি দেয়। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।
শৈশব থেকে বার্ধক্য সব বয়সেই প্রয়োজন স্পর্শ
স্পর্শের উপকারিতা শুরু হয় জন্মের পর থেকেই। নবজাতকের সঙ্গে মা বাবার ত্বকের সংস্পর্শ শিশুর শারীরিক স্থিতি বজায় রাখতে এবং কান্না কমাতে সাহায্য করে। বড় হওয়ার পরও এই স্পর্শের গুরুত্ব কমে না। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপে থাকা মানুষ প্রিয়জনের হাত ধরলেই স্বস্তি পায়। এমনকি সহানুভূতিশীল একটি হালকা স্পর্শও একাকিত্বের অনুভূতি কমাতে পারে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কার্যকর
নিয়মিত আলিঙ্গন শুধু মনই ভালো রাখে না শরীরকেও সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরেন, তাদের সর্দি-জ্বরের ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই স্নেহপূর্ণ স্পর্শ শরীরের প্রদাহ কমিয়ে নানা রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
ডিজিটাল যুগে স্পর্শের অভাব
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে আমরা অনেকটাই পর্দার আড়ালে বন্দী। ফলে সরাসরি দেখা বা স্পর্শের সুযোগ কমে যাচ্ছে। করোনাকালে স্কিন হাঙ্গার বা স্পর্শের অভাবের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে নতুন করে সামনে এসেছে। এমনকি কিছু দেশে কাডল ক্যাফের মতো ধারণাও তৈরি হয়েছে। যেখানে মানুষ শুধু আলিঙ্গনের উষ্ণতা পেতে যায়।
সব মিলিয়ে, হাজারো ভার্চুয়াল যোগাযোগ কখনোই একটি সত্যিকারের আলিঙ্গনের বিকল্প হতে পারে না। তাই ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয়জনকে সময় দিন। আর একটি আন্তরিক আলিঙ্গনে ছড়িয়ে দিন ভালোবাসা ও মানসিক প্রশান্তি।