Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিএমডির প্রযুক্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসি, বাড়ছে উৎপাদন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪০ | আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাল খনন ও ভূ-পরিস্থ পানির ব্যবহারের মাধ্যমে একসময়কার শুষ্ক বরেন্দ্র জনপদ এখন দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে।

জেলা কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিএমডিএর ১ হাজার ৬৩৯টি ফোর্স মোড পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে তিনটি ফসল চাষ হচ্ছে, যা আগে ছিল একটি। এতে উপকৃত হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কৃষক পরিবার। মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদী থেকে ১০০টি এলএলপি পাম্পের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। বছরে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

পানির অপচয় রোধে ২০০৩ সালে চালু করা হয়েছে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা। পরিবেশ রক্ষায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫০ লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৩০ কিলোমিটার খাল ও ১ হাজার ৯১টি পুকুর পুনর্খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো হয়েছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ২৩৪টি স্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার সেচ নালা (বারিড পাইপ) ও ১৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা কৃষিপণ্য বাজারজাত সহজ করেছে।

সদর উপজেলার প্রবীণ কৃষক জুবায়ের হোসেন (৬৫) বলেন, বিএমডিএ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করায় আমাদের কৃষিতে বিপ্লব ঘটছে। খাল খনন করে নদী থেকে পানি আনা এবং পুকুর সংস্কার করে ওপরের পানির ব্যবহার বাড়ানোয় চাষাবাদ সহজ হয়েছে। এমনকি, নিচের পানির স্তরটাও ঠিক থাকছে। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা বড় আশার আলো। গাছ রোপণ ও খাল খননে বিএমডিএ’র যে দক্ষতা, তাতে তাদের আরও বড় দায়িত্ব দিলে এই অঞ্চলের চেহারা পাল্টে যাবে।

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাতিন (৫০) বলেন, ১৯৯১-৯২ সালে বিএমডিএ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই অঞ্চলের পরিবেশগত বিবর্তন শুরু হয়। এক সময়ের অনুপযোগী জমি এখন ফসলে ভরা।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন ও চারা রোপণের যে দূরদর্শী পদক্ষেপ, তা আজ বিএমডিএ’র মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে কৃষকের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটাচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রিজিয়ন কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশিদ বলেন, মহানন্দা নদীর পানি ব্যবহার করে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর খরাপ্রবণ এলাকায় সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রণালয়ে দু’টি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ডাবল লিফটিং পদ্ধতি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩৯ কোটি টাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব প্রশমন প্রকল্পের ব্যয় ৫৮৭ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ২১০ কিলোমিটার খাল ও ১৫০টি পুকুর পুনর্খনন, ৫ লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং সোলার সেচযন্ত্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ৬ কিলোমিটার খাল এবং দু’টি বড় বিল (চুড়ইল ও কালন) পুনর্খননের কাজ চলছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহাত তাসনীম বলেন, বিএমডিএ যেহেতু কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত দক্ষ, তাই তাদের এই কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হলে বরেন্দ্র অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সমন্বয়ে বিএমডিএর কার্যক্রম শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতেও একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।