সাতক্ষীরা: মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনের নানা বাহিনী ও ডন বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছয় জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৩১ মে) রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল ও সুবদে খাল থেকে তাদেরকে অপহরণ করা হয়।
সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টার মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না পাঠালে তাদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সর্বশেষ খবর জানা যায়নি।
এ ছাড়া, অপহরণের সময় ইসমাইল খাঁ নামের এক জেলেকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে জখম করার খবরও পাওয়া গেছে।
আহত ইসমাইল খাঁকে সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকায়।
অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকার দেলোয়ার খাঁর ছেলে ইয়াসিন খাঁ (৩২) ও আলমগীর খাঁ (৩৮), হরিনগরের আব্দুর রহিম মোল্লার ছেলে আল আমিন মোল্লা (৩৫), একই গ্রামের নুরুল হক গাজীর ছেলে কামরুল গাজী (৫০), আব্দুল গফুর গাজীর ছেলে শাহজাহান গাজী (৪৮) ও খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের রফিকুল গাজীর ছেলে শহীদুল গাজী (৪৬)।
অপহৃত জেলেদের স্বজনেরা এসব তথ্য জানিয়েছে।
তারা আরও জানায়, শনিবার (৩০ মে) সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে কাঁকড়া ধরার অনুমতি (পাস) নিয়ে পাঁচটি নৌকায় ১৮ জন জেলে সুন্দরবনে যান। প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পহেলা জুন সকালে তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল।
এজন্য তারা রবিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়িয়া খাল ও সুবদে খাল এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় কয়েকজন সশস্ত্র দস্যু পাঁচটি নৌকা থেকে ছয়জনকে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে বিকাশ নাম্বারে পরিশোধ না করলে তাদেরকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় চালতেবেড়িয়া এলাকায় একটি নৌকায় অবস্থান করা দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলকার গণি খাঁর ছেলে ইসমাইল খাঁকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তাকে আশাঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’