পটুয়াখালী: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের দলের মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘একজন মানুষ মৃত্যুর পর এত জনপ্রিয় হতে পারে-এর নজির শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বেও বিরল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা বাংলাদেশ যেন এক জায়গায় মিলিত হয়েছিল। যেদিন তার জানাজা হয়েছে, সেদিন পুরো ঢাকা শহর যেন একটি জানাজাস্থলে পরিণত হয়েছিল। কে কোন দল করে, কে কোন আদর্শে বিশ্বাস করে—সেদিন এসব ভেদাভেদ ছিল না।’
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে মৎস্য বন্দর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে ৪৮ নম্বর মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মানুষ স্বীকার করেছে যে খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন অভিভাবক। এমনকি ঢাকায় অনেক আওয়ামী লীগ নেতারাও তার জানাজায় গিয়ে দোয়া করেছেন। কারণ দেশ পরিচালনায় তার মতো একজন অভিভাবকের প্রয়োজন ছিল।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া জীবিত অবস্থায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে তার কোনো ঠিকানা নেই। এই মাটিতে জন্মেছেন, এই মাটিতেই মৃত্যুবরণ করতে চান। আল্লাহ তাআলা তার সেই ইচ্ছা কবুল করেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও তার মৃত্যু বাংলাদেশের মাটিতেই হয়েছে।’
ফখরুদ্দিন-মঈন উ সরকারের আমলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তখনও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন—এই দেশের মানুষ তাকে গৃহবধূ থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে, তাই এ দেশ ছেড়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘নারীদের বাদ দিয়ে কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না—এই দর্শন থেকেই তিনি মেয়েদের লেখাপড়া বিনামূল্যে করেন এবং উপবৃত্তি চালু করেন। আজ ঘরে ঘরে কর্মজীবী নারীর যে অগ্রযাত্রা, তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।’
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির যে মূল ভিত্তি—গার্মেন্টস, জনশক্তি রফতানি ও ভ্যাট ব্যবস্থা—এসবের সঙ্গে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।’
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। জনশক্তি রফতানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান।’
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কলাপাড়া, হাজিপুর ও মহিপুরের সেতুগুলো ২০০৪ সালে খালেদা জিয়া নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এসব স্থাপনা যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ তাকে স্মরণ করবে।’
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান আগামী দিনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন। আমরা চাই একটি স্থিতিশীল ও স্বচ্ছল বাংলাদেশ—তাহলেই বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।’
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল হাওলাদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লি, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার, মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ফজলু গাজী,মহিপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান হাওলাদার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেথানা মহিপুর থানা যুবদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্যাদা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ খান, সদস্য সচিব আতিকুর রহমান মিলন, শ্রমিক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান পিন্টু ভদ্র, থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানজিল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
শোক সভা শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।