Friday 09 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই নিয়ে ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার জেলা প্রশাসকের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫১

সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।

সিলেট: সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে ওঠা পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজ দায়িত্বে চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে—এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এসব মিথ্যা অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়। এর মধ্যে একজন প্রার্থী দাবি করেছেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কোনো ডকুমেন্ট তিনি জমা দিতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিস কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকৃত ডকুমেন্ট অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের রসিদ জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রার্থী তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আইন অনুযায়ী বাধ্য হয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই।

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা—কেউ যদি এক টাকার ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব। এটি সম্পূর্ণ ফেক নিউজ।

তিনি আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নাকচ করে দৃঢ়কণ্ঠে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দশ কোটি টাকা নয়, দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ারকে কেউ কিনতে পারবে না।’

তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। তিনি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সবাইকে ফেক নিউজ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর