পঞ্চগড়: বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এই সংস্কার শুধু আমাদের চাওয়া নয়; যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে না দিতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে। পরিবর্তন চাইলে ‘হ্যাঁ’-তে সিল মারতে হবে, না হলে বাংলাদেশ অতীতের অবস্থায় ফিরে যাবে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে গণভোট ২০২৬ প্রচারণা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাজী মো. সায়েমুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং সমাজের নানা স্তরে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ও বাইরে থেকে যা দেখছি, তা লিখতে গেলে হাজার হাজার পৃষ্ঠা লাগবে—কীভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থার নামে দেশের সম্পদ লুট হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মূলত রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। ‘আমাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার করে তা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এ কারণে সময় লেগেছে,’ বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা খারাপ—এমন মন্তব্য একপাক্ষিক। ‘এখন পুলিশ লাঠি মারে না, গুলি চালায় না। আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভয়ভীতির প্রয়োজন হবে না; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিদ্যমান কাঠামোতে সংবিধান দিয়েই একজন শাসক স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে। অতীতে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা সংবিধান পরিবর্তনের বদলে তা আরও শক্ত করার পথেই হেঁটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি জানান, এ বিষয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
এর আগে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থলবন্দরের ইয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।