চুয়াডাঙ্গা: সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, দুর্নীতি ও স্বৈরশাসনমুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াতে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে ভোট দিন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোট জনগণের নৈতিক অধিকার ও দায়িত্ব। গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। ২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ নতুন স্বপ্ন দেখেছে, আর কেউ চায় না দেশ আবার আগের মতো বিপথে যাক। একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে সবাইকে গণভোটের প্রতি উদ্যোমী হয়ে উঠতে হবে।‘
উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটের প্রশ্নে সরকার ও রাষ্ট্র নিরপেক্ষ নয়, নৈতিক অবস্থান থেকে আমরা সংস্কারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আপনি যদি হ্যাঁ বলেন, তাহলে আপনি সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, নতুন বাংলাদেশের দরজা খুলে দিচ্ছেন।’
গণভোটকে শহিদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, ‘এই গণভোটের পক্ষে দাঁড়ানো মানে ১৪০০ শহিদের পক্ষে দাঁড়ানো, ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো, দুর্নীতি ও স্বৈরশাসনমুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো। যুগের পর যুগ একই কাঠামো থাকলে আবার নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে। তাই আমরা গণভোটের পক্ষেই থাকব।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘গণভোটের প্রচারের জন্য চুয়াডাঙ্গায় একাধিক প্রচার গাড়ি দিনরাত বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে এবং এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-পরিচালক মেজর মাসুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম.তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতরের প্রতিনিধি এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা।