Wednesday 21 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আমের রাজধানীতে হচ্ছে চায়না কমলা, খুলছে সম্ভাবনার দ্বার

মো. আশরাফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০১

চায়না কমলা চাষে সফল সায়েম আলী। ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বলা হয় আমের রাজধানী। তবে আমের পাশাপাশি এবার জেলায় নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠছে ‘চায়না কমলা’। আমদানি নির্ভর এই ফল স্থানীয়ভাবে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে বিদেশি কমলার ওপর নির্ভরতা।

সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরহাট গ্রামে সফলভাবে চায়না কমলা চাষ করছেন কৃষক সায়েম আলী। আমের ব্যবসায় লোকসান গুনে ২০২২ সালে বিকল্প হিসেবে তিনি কমলা চাষ শুরু করেন। এর পর মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন উদ্যোমী এই কৃষক।

সায়েম আলী সারাবাংলাকে জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করায় ফলন ভালো হয়েছে। ২০২৪ সালেই তার প্রাথমিক বিনিয়োগের খরচ উঠে আসে। চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে কমলা চাষ করে প্রায় ৮ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, উদ্যোক্তা ও আগ্রহী মানুষ ভিড় করছেন। তারা কমলার ফলন, গাছের পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতি ঘুরে দেখছেন।

চায়না কমলা চাষে সফল সায়েম আলী। ছবি: সংগৃহীত

চায়না কমলা চাষে সফল সায়েম আলী। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় কৃষক সালাম আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আগে ভাবতাম, কমলা শুধু পাহাড়ি এলাকাতেই হয়। কিন্তু সমতলেও এখন কমলা চাষ হচ্ছে। এখানকার কমলা সুস্বাদ। এর ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

কৃষি বিভাগ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি ও জলবায়ু চায়না কমলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে জেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চায়না কমলা চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকরা আগ্রহী হলে আমরা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আমির আব্দুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান সারাবাংলাকে জানান, স্বাদ ও বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমলার চাষ দিন দিন বাড়ছে। এটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি ফলের আমদানি হ্রাসেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে কমলার চাষ হচ্ছে। আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলায় বিদেশি ফল কমলা এখন নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠছে।