খুলনা: ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, ‘কে কোন ধর্মের লোক—তা মুখ্য নয়। সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, খুলনা-৪ আসন সব ধর্মের মানুষের। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা হবে এবং ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য চলতে দেওয়া হবে না। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং নারী অধিকার নিশ্চিতে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, “নারী সমাজকে সম্মান ও নিরাপত্তা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
মাদক ও সন্ত্রাস দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে ধর্মীয় চর্চা এবং নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চা জোরদার করতে হবে। এ লক্ষ্যে উপজেলার সব খেলার মাঠ আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণ সমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনটি উপজেলায় তিনটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তিনি নির্বাচিত হোন বা না হোন, সাধারণ মানুষের জন্য তার হটলাইন নম্বর চালু থাকবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে অভিযোগের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং রূপসার সাংবাদিকদের জন্য একটি আধুনিক প্রেসক্লাব গঠনে সহযোগিতা করা হবে।
ভূমি অফিসে দুর্নীতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভূমি অফিসগুলোকে দালালমুক্ত করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনে মামলা ও কারাবরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ছাড়া নেতৃত্ব বিকাশ সম্ভব নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত।”
অনুষ্ঠানটির সার্বিক উপস্থাপনা করেন চ্যানেল আই-এর জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী। সংগীত পরিবেশন করেন বয়াতী শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ প্রশ্ন করেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।