Saturday 24 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

২০ গ্রামের ২২ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো

রানা আহমেদ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০০

বেলকুচির আগুরিয়া নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আগুরিয়া। যেখানে রয়েছে যমুনা সংযুক্ত আগুরিয়া নদী। আর এই নদী মূল ভূখণ্ড থেকে ভাগ করে রেখেছে ২০টি গ্রামকে, যে গ্রামগুলোতে কমপক্ষে ২২ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। আগুরিয়া নদীর ওপর ৩৫০ থেকে ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেতু নির্মাণে আজও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ২০টি গ্রামের প্রায় ২২ হাজার মানুষ নৌকা ও বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করেই চলাচল করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে আগুরিয়া নামে পরিচিত নদীটির পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। অন্যদিকে নদী পারাপারের জন্য তৈরি করা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। সামান্য অসাবধানতায় বড়ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প কোনো পথ নেই তাদের।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, হরিনাথপুর চর, বড়ইতলা, বেড়া খাওরুয়া, দসখাদা, মুলকান্দি, বাগভাংরা, নানাপুর চর ও বড়ধুলসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত নির্ভর করছে এই একটি বাঁশের সাঁকোর ওপর। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া, কৃষকদের হাটে যাওয়া কিংবা অসুস্থ ও বয়স্কদের চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপেই কাঁপতে থাকে সেই সাঁকো।

স্থানীয়রা জানান, নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় আড়তে ফসল বিক্রি করতে হয়। সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক, শিক্ষার্থী ও বয়স্করা।

বেলকুচির আগুরিয়া নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। ছবি: সারাবাংলা

বেলকুচির আগুরিয়া নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। ছবি: সারাবাংলা

এই বাঁশের সাঁকোটি প্রতিবছর নিজ উদ্যোগে তৈরি করেন মাঝি হযরত আলী। সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, প্রতিবছর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে সাঁকোটি নতুন করে বানাতে হয়। গ্রামবাসীরা পারাপারের বিনিময়ে বছরে এক মণ ধান দেন এবং বাইরের কেউ পার হলে জনপ্রতি পাঁচ টাকা নেওয়া হয়।

হযরত আলী বলেন, ‘নদীর ওপর ব্রিজ না থাকলে মানুষ চলবে কীভাবে? নিজের টাকায় না বানালে এই গ্রামগুলো একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’

আগুরিয়ার কৃষক সোনাউল্লাহ সারাবাংলাকে বলেন, ‘ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে নিতে পারি না, কারণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল অসম্ভব। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়। এতে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিব খাঁন সারাবাংলাকে বলেন, ‘অনেকবার আবেদন করেছি, কাজ হয়নি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও কাজ হয়নি। তাই আর কোনো পরিকল্পনা নেই।’

বেলকুচি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এরই মধ্যে কয়েকটি সেতুর তালিকা জেলা প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এই নদীর ওপর কোনো সেতুর চাহিদা পাঠানো হয়েছে কি না খোঁজ নিয়ে দেখব।’

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘৭৫টি সেতু নির্মাণের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’ তালিকায় থাকলে কাজ হবে, না থাকলে পরবর্তী সময়ে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

রানা আহমেদ - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর