লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের আট দিন পর ফজলে রাব্বি (২১) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির টয়লেটের ট্যাংক থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাহেদ নামে একজনকে ঢাকা থেকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো উদ্ঘাটন না হলেও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নিহত রাব্বি হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের সৈয়দ মিয়া পাটওয়ারী বাড়ির বেল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ছাত্র এবং ছাত্রলীগকর্মী ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে চন্দ্রগঞ্জ থেকে সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী বাজারে যান রাব্বি। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সন্ধান না পেয়ে পরদিন তার বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার বিকেলে চন্দ্রপ্রবাহবাঘ গ্রামের শেখের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সেখানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং পরে সেটি রাব্বির বলে শনাক্ত করা হয়।
নিহতের চাচা মো. সোহরাওয়ার্দী জানান, রাব্বি গত ৮ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। স্থানীয়রা পরিত্যক্ত ওই বাড়িটি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে এবং মাছি উড়তে দেখে আমাদের খবর দেয়। পরে আমরা সেখানে গিয়ে ট্যাংকের ভেতরে রাব্বির হাত-পা বাঁধা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। তবে কী কারণে বা কারা আমার ভাতিজাকে এভাবে হত্যা করেছে, তা এই মুহূর্তে বুঝতে পারছি না।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে।