সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে টানা এক মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর ভারত থেকে আবারও শুরু হয়েছে চাল আমদানি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আমদানি কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গত ২ দিনে এই বন্দর দিয়ে ৩৬টি ট্রাকে মোট ১ হাজার ৪৪৭ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ভোমরা স্থল বন্দরে গত বছরের ৩০ নভেম্বর চাল আমদানি হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর আবারও বন্দরে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল ক্রয়ের সময়সীমা এগিয়ে এনে ১৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করায় তালিকাভুক্ত মিলাররা সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে হঠাৎ করে খোলা বাজারে চালের সরবরাহ কমে যায় এর প্রভাব পড়ে দামে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমদানি বাড়লে চালের দাম আবার কমে আসবে।
এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাতক্ষীরার বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা।
ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুসা জানান, দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নির্দেশে গত ১৮ জানুয়ারি দেশের ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর আমদানিকারকরা এলসি খুলে আমদানির প্রস্তুতি নেন। এলসির কপি হাতে পাওয়ার পর বুধবার দুপুর থেকে ভোমরা বন্দরে চাল আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিন ৫টি ট্রাকে ৩৬৭ মেট্রিক টন চাল আসে। পরের দিন আরও ৩১টি ট্রাকে চাল আমদানি করা হয়।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেসার্স ইসমাইল, হানেফ এন্টারপ্রাইজ, ইসলামপুর রাইচ মিল, রেজাউল অ্যান্ড সন্স এবং জাহাঙ্গীর হোসেন। দুই দিনে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট ৩৬টি ট্রাকে ১ হাজার ৪৪৭ মেট্রিক টন চাল ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে নিয়মিত চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং খুব শিগগিরই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।