টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের হরিণ প্রতীকের ৩টি নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও দুটি অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হরিণ প্রতীকের অ্যাজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু।
হরিণ প্রতীকের অ্যাজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু অভিযোগ করেন, এ আসনের বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের হরিণ প্রতীকের তিনটি নির্বাচনি অফিস বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর চালানো অফিসগুলো হলো- রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের সলঙ্গা নির্বাচনি অফিস, ইলিমজান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সোনাতলা মোড় অফিস ও দেওয়ানপুর কেন্দ্রের দেওয়ানপুর নির্বাচনি অফিস। এছাড়া বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বহেড়াতৈল ও কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা নির্বাচনি অফিস দুটিতে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়- বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকরা শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ৩টি নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে দুটি নির্বাচনি অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের কর্মী-সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করে। একই আসনের শোলাপ্রতিমা ও কালিয়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর হরিণ প্রতীকের দুটি বিলবোর্ড ভাঙচুর করা হয়।
হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও তালা ঝুঁলানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা পরাজয়ের ভয়ে এ সব অপকর্ম করছে। হিংসা-প্রতিহিংসা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। নির্বাচনি পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং জনগণ যেন স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- সেটি নিশ্চিত করা সবারই দায়িত্ব। নিজের কর্মী-সমর্থকদের ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর ইলেকশনে ভোটের দেউলিয়াত্বে ভোগছেন। তাই নানা ধরণের কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। বাসাইল-সখীপুরের মানুষ এগুলো বুঝে এবং তারা বুঝে-শুনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে গঠিত নির্বাচনীয় অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি রয়েছে। তাদের কাছে অভিযোগ করা থাকলে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া ওই অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারের আওতায় এনে দোষীদের সাজার দিতে পারে।