সিলেট: সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ড্রোন হামলায় যে বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন তার নাম সালেখ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৪৮)। তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইফতার শেষ করে ডেলিভারি কাজে পানির গাড়ি নিয়ে বের হলে ইরানের চোরা ড্রোনের বিস্ফোরণে তিনি নিহত।
রোববার (১ মার্চ) রাত ১০টায় নিহত প্রবাসী সালেখের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলি বেগম ড্রোন হামলায় মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এবং তার সহকর্মী বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সালেখের মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ, প্রবাসী কমিউনিটি ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ খোঁজ নিতে তার বড়লেখার বাড়িতে উপস্থিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশি প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, সালেখ উদ্দিন ইফতার শেষে প্রতিদিনের মত জরুরি খাদ্য পানীয় সরবরাহের কাজে গাড়ি নিয়ে বের হন। এ সময় তার সঙ্গে আরও এক সহকর্মী ছিলেন। হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সালেখ উদ্দিন গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তী সময়ে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত সালেখ উদ্দিন আরব আমিরাতের আজমান প্রদেশে পানির ডেলিভারিম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করতেন। দেশে তার মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
সালেখ উদ্দিনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেলী বেগম জানান, শনিবার থেকেই তারা সালেখের মৃত্যুর খবর শুনছিলেন, তবে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। আজ দুপুরে আরব আমিরাতে থাকা সালেখের ছোট দুই ভাই জাকির ও বোরহান উদ্দিন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ইরানের ড্রোনের আঘাতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানালেও বাংলাদেশ দূতাবাস এখনো কিছু জানায়নি।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পালটা হামলা চালানোর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশের নাগরিক ও অপর দু’জন পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক। এসব হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৮ জন।