Tuesday 17 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৭ ঘাটের মধ্যে সচল ৩টি
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:০২

রাজবাড়ী: পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হতে না হতেই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট নৌরুটে বাড়তে শুরু করেছে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ। তবে ফেরি স্বল্পতা, সীমিত ঘাট সক্ষমতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আসন্ন ঈদযাত্রায় এ রুটে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।

ঘাট-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদের আগে ও পরে এ নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সেই তুলনায় ফেরি সংখ্যা বা ঘাটের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি। গত বছর ঈদুল ফিতরের সময় এ রুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করলেও এবার একটি কমিয়ে ১৬টি ফেরি চলাচলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে মোট ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র তিনটি- ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট। বাকি ৪ টি ঘাট কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

সচল থাকা ঘাটগুলোর পন্টুনের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পন্টুন থেকে সংযোগ সড়ক অনেকটা উঁচু হয়ে গেছে। এতে করে যানবাহন ওঠানামা করতে সময় বেশি লাগছে এবং প্রায়ই পন্টুন থেকে সংযোগ সড়কে উঠতে গিয়ে গাড়ি আটকে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সচল থাকা ৩টি ঘাটের আটটি পকেট দিয়ে যানবাহন লোড-আনলোড করা হচ্ছে। তবে মূল সড়ক থেকে পন্টুনে যাওয়ার সংযোগ সড়কের অবস্থা বেশ নাজুক। কোথাও কোথাও পন্টুন থেকে সড়ক অনেকটা খাড়া হয়ে গেছে।

ট্রাকচালক লুৎফর রহমান বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় পন্টুন থেকে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। ফলে সংযোগ সড়ক উঁচু হয়ে গেছে এবং ভারী যানবাহন ওঠানামা করতে গিয়ে প্রায়ই ফেঁসে যায়। অনেক সময় র‌্যাকার দিয়ে গাড়ি তুলতে হয়, এতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।

মাইক্রোবাস চালক রাজন ও বাসচালক মেহেদি বলেন, তিনটি ঘাট সচল থাকলেও এসব ঘাট দিয়ে গাড়ি ওঠানামা করতে বেশ বেগ পেতে হয়। ঈদের আগে ঘাটগুলো মেরামত না করা হলে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা দুর্ভোগে পড়বে।

দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ঈদে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরি চলাচল করবে। সচল থাকা ৩টি ঘাট দিয়েই নির্বিঘ্নে পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, ঈদে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ রাখতে পুলিশের মোবাইল পেট্রল, ফিক্সড পেট্রল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও নৌপুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।

স্থানীয় যাত্রী ও চালকদের দাবি, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত ঘাট মেরামত, ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সংযোগ সড়কের সংস্কার করা জরুরি। তা না হলে ঈদের সময় এ গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে দীর্ঘ যানজট ও দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর