Wednesday 15 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাজবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫২

ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা

রাজবাড়ী: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রাজবাড়ীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আধুনিক সভ্যতার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢোলের তালে মুহুর্মুহু আঘাত, প্রতিরোধের খটখট শব্দে মুখোরিত হয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ঐতিহ্যবাহী শহিদ খুশি রেলওয়ে মাঠে খেলা দেখতে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। জেলার সদর উপজেলার খালেক সরদারের নেতৃত্বে নিউকোলনী দল ও সিরাজগঞ্জ জেলার নুরুল ইসলামের একটি দল এই লাঠি খেলায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে লাঠি খেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন।

বিজ্ঞাপন

লাঠি খেলা দেখতে আসা লিপি নামের এক দর্শক বলেন,
অনেক দিন পরে সেই পুরাতন খেলা লাঠি খেলা দেখতে পেলাম। অনেক আনন্দ লাগছে। তবে আগের যে খেলাটা ছিল সেটা আর এখন দেখতে পাই না। অনেকটা কমতি আছে ।

আক্তার নামের এক দর্শক বলেন, প্রায় ৩০ বছর পরে আজ লাঠি খেলা দেখলাম। এখন তো এই লাঠি খেলা দেখাই যাই না । সিরাজগঞ্জ থেকে যে দল এসেছে ওই দলের আপন ২ ভাই খেলেছে সেটা অনেক ভালো লেগেছে। আমরা চাই মাঝে মাঝে এই লাঠি খেলার আয়োজন করুক প্রশাসন।

একাধিক দর্শনার্থীরা জানান, এক সময় গ্রামবাংলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লাঠিবাড়ি খেলা অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে খেলাটি বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় দক্ষ খেলোয়াড়ও হারিয়ে যাচ্ছে। তারা এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান।

লাঠি খেলোয়াড়েরা জানান, সরকারি সকল অনুষ্ঠানে এই লাঠিখেলা আয়োজন করা প্রয়োজন। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা এখন হাড়ানোর পথে। এখনকার ছেলে-মেয়েরা সব সময় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই লাঠি খেলা দেখা সবার মধ্যে যদি আগ্রহ থাকে তাহলে ছেলেমেয়েরা মোবাইলের প্রতি আসক্ত থাকবে না। এ জন্য এই খেলাটি ধরে রাখা প্রয়োজন। আমরা ছোট-ছোট ছেলেদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। নববর্ষের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে লাঠিবাড়ি খেলাটি আয়োজন করা হয়েছে। খেলায় যারা অংশগ্রহণ করছে তাদেরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা অনেক সুন্দর খেলেছে। কয়েক হাজার মানুষ আজ প্রাচীন এই খেলা উপভোগ করেছেন, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর