সিলেট: দেশকে এগিয়ে নিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই এবং জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করে একটা পয়সার লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কারিগরি শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার চাহিদা আসে, কিন্তু দক্ষতার অভাবে আমরা অনেক সময় সেই চাহিদা পূরণ করতে পারি না। তাই এখনই পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
জাপান, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে জাপান, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই চাহিদা পূরণ করতে হলে আমাদের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু সাধারণ শ্রমিক হিসেবে নয়, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী হিসেবেই বিদেশে যেতে হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ভাষাগত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরবি, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ বাড়াতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রসারিত হবে।
তিনি জানান, জেলা পরিষদের মাধ্যমে উপজেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা গেলে স্থানীয় তরুণরা সহজেই দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকার নানা ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন বাজার সৃষ্টিতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারলেই বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন ‘এসেট (ASSET)’ প্রকল্পের এ আয়োজনে আঞ্চলিক দক্ষতা ও উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সিলেট বিভাগের ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারী তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় পর্যায়ে মোট ৫০টি নির্বাচিত উদ্ভাবনী প্রকল্প হতে চূড়ান্ত পর্বে তিনটি প্রকল্প বাছাই করা হবে।
এদিকে, সন্ধ্যায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও জুলাই যোদ্ধাসহ পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। জেলা পরিষদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস প্রান্তিক মানুষের অভাব দূর করতে এবং তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। আমরা চাই প্রতিটি নাগরিক যেন রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধার সুফল পায়।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামারুজ্জামান মাসুমের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম, বক্তব্য দেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিমসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা।