Tuesday 21 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উচ্চশিক্ষা ছেড়ে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ, প্রাণ গেল মৌলভীবাজারের যুবকের

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
২১ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৭ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২০

নিহত রুশ সেনা মুহিবুর রহমান।

সিলেট: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান (২৮)। কিন্তু ভাগ্য তাকে নিয়ে যায় রণক্ষেত্রে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে লড়াই করতে গিয়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

নিখোঁজের ৪ মাস পর গত ১৭ এপ্রিল তার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন স্বজনরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমতৈল ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. ইকবাল আহমদ।

নিহত মুহিবুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের মসুদ মিয়ার ছেলে। তিনি রাশিয়ায় যুদ্ধের বিভিন্ন বাংকারে রান্নার কাজ করতেন।

বিজ্ঞাপন

মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি রাশিয়া থেকে পরিবারের কাছে জানান, তার সহকর্মী মেহেদী হাসান নামের এক তরুণ। তাছাড়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুহিবুরের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান।

হাবিবুর রহমান জানান, তার বড় ভাই মুহিবুর উচ্চ শিক্ষা অর্জনে কয়েক বছর আগে রাশিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় পাড়ি জমান। সেখানে আড়াই বছর পড়ালেখা করেন। গত বছর দেশে এসে বিয়ে করে আবার রাশিয়া চলে যান। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যদের জানান, তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর রান্নার কাজে যোগদান করেছেন।

তিনি জানান, বছর দুই আগে দালালেরা ভাইকে প্রলোভন দেখায় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব মিলবে। ভাই পরিবারকে না জানিয়ে নাগরিত্বের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি আমাদের বলেছেন রাশিয়ার সেনাবাহিনীর খাবার রান্না করে খাওয়ান।

তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে একটি বাংকারে অবস্থানকালে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই আমার ভাই মুহিবুর নিহত হন। রাশিয়ান সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহকারী কাজে নিয়োজিত অপর প্রবাসী মেহেদি হাসান পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন আমার ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকে একটাই দাবি আমার ভাইয়ের মরদেহ যেন আমাদের কাছে এনে দেওয়া হয়।

এদিকে, রাশিয়ায় অবস্থানরত মুহিবুরের সহপাঠী শাহ সাইফুর রহমান জানান ভিন্নকথা। সারাবাংলার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মুহিবুর আমার ইউনিভার্সিটির পাশে অবস্থিত ভরেঞ্জ স্টেইট এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করতেন। দীর্ঘদিন থেকে তার ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি বকেয়া ছিল তার। ক্লাসেও ছিলেন অনিয়মিত। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ কয়েকবার তাকে ওয়ার্নিং করার পর বাধ্য হয়ে তার ভিসা বাতিল করে।

একদিকে ভিসা বাতিল অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। উপায়ান্তর না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছায় রাশিয়ার আর্মিতে যোগদান করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ায় যারা আর্মিতে যোগদান করে সব নিজের ইচ্ছায়। এখানে কেউ কাউকে ফোর্স করে না। মুহিবুরও নিজের ইচ্ছায় যোগদান করেছেন।

স্থানীয় আমতৈল ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য মো. ইকবাল আহমদ বলেন, আমরা মুহিবুরের পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সে রাশিয়ায় মারা গেছে। সে রাশিয়ার হয়ে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মশাহিদ হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। মুহিবুর নামে এক যুবক রাশিয়ায় মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিহত সৈনিকদের মরদেহ সাধারণত নিজ দেশে পাঠানো হয় না। লাশগুলো অনেক ক্ষেত্রে সরিয়ে ফেলা হয় বা গণকবর দেওয়া হয়। ফলে মুহিবুরের মরদেহ দেশে ফেরত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ গিয়ে অকালে প্রাণ হারানো মুহিবুরের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর