Wednesday 22 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩০

যশোর মেডিকেল কলেজ।

যশোর: যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল। এজন্য শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্ন ক্লাসের জন্য ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নির্মাণ কাজের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যশোরবাসীর দাবি, দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শেষে চালু করা হোক। প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর যেন কাজের গতি থেমে না যায়।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ২০০৬ সালে যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। যশোর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণও করা হয়। পরবর্তীতে থমকে যায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০-১১ সেশনে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। অস্থায়ীভাবে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ভবনে মেডিকেল কলেজর কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালের আগস্টে হরিণার বিলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে হাসপাতাল ছাড়াই কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়। যশোরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অনুমোদন করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসপাতাল নির্মাণ কাজে গতি পেয়েছে। ক্যাম্পাসে হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তৃতীয় বর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস শুরু হয়। এমবিবিএস পাশ করার পর ইন্টার্ন শুরু হয়। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যায় ক্লিনিক্যাল ক্লাস থাকে। ৫ কিলোমিটার দূরে জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে সীমিত পরিসরে এসব কাজ করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মেডিকেল কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল থাকলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইলের ৮০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদফতর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চলমান প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৬ কোটি টাকা। এ ব্যয়ে দশতলা বিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি হোস্টেল, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য দুটি হোস্টেল, একটি নার্সিং কলেজ ভবন, একটি নার্সিং হোস্টেল, একটি স্টাফ নার্স ডরমেটরি ভবন, ২১ ফ্ল্যাটের একটি চিকিৎসক কোয়াটার, ১০ ফ্ল্যাটের একটি কর্মচারী কোয়াটার, ৫০০ আসনের একটি অডিটোরিয়াম, একটি মসজিদ ও একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় আমরা হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। যশোর মেডিকেল কলেজের সঙ্গে হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর আমরা হাসপাতালের দাবিতে আন্দোলন করেছি। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে হাসপাতাল নির্মাণ কাজে গতি ফিরেছে। আমরা চাই এই ধারাহিকতা অব্যাহত থাকুক। আমরা দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে চাই।

কলেজের পাশে হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালের ভিত্তির প্রস্তর স্থাপন করবেন। আশা করি খুব দ্রুতই যশোরবাসী পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল পাবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল। সেই অসম্পন্ন স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে পূরণ হতে যাচ্ছে। এতে যশোরবাসী উচ্ছ্বসিত।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে যশোরবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হবে। আশাকরি পর্যায়ক্রমে সেই দাবি বাস্তবায়ন হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর