Wednesday 29 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সারা দেশে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু

সারাবাংলা ডেস্ক
২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৫ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২৪

বজ্রপাত। প্রতীকী ছবি

ঢাকা: সারা দেশে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে দু’জন, জামালপুরে দু’জন, ঠাকুরগাঁওয়ে দু’জন, বগুড়ায় একজন, নাটোরে একজন ও পঞ্চগড়ে একজন মারা গেছেন।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচ জন মারা গেছেন। পাঁচজনের মধ্যে সুন্দরগঞ্জে একই স্থানে তিন জনের মৃত্যু হয়। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন। এ সময় একটি ঘোড়া ও একটি গরুরও মৃত্যু হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জে নিহতরা হলেন- দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), আল মোজাহিদ চৌধুরী ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১২) এবং নবীন হোসেনের ছেলে মিজানুর (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে।

বিজ্ঞাপন

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এ সময় ওই দুই তরুণ ও শিশু শিক্ষার্থী বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে স্বজনরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ সময় একটি গরুও মারা গেছে। এছাড়া, একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরে ঘোড়ারগাড়ি চালাতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘোড়াসহ মানিক হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান জানান, বিকেলে আকাশ খারাপ দেখে ওই যুবক ঘোড়াসহ বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রপাত হলে ঘোড়াসহ ওই যুবক মারা যান। এ ছাড়া, একই উপজেলার ফজলপুর ইউনিয়নের বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে এক কৃষক গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে জেলার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নম্বার আলী উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে। বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশেই ছাগল দেখতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতের তিনি গুরুতর আহত। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজগঞ্জ

জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দু’জন মারা গেছেন। তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) মারা যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফি জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

একই দিন বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় কাটা ধান জড়ো করার সময় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি আব্দুল হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমিতে কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর

জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকায় নদীপাড়ের চরে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার একটি গরুও মারা যায়।

অন্যদিকে মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা আক্তার (২২) গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শেফালী বেগম নামে আরও একজন আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া

জেলার গাবতলী উপজেলার মুচিখালী গ্রামে জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গাবতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু মুসা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ইউডি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরের দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকে পীরগঞ্জ ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে ২টার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি মারা যান। অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় দুপুরে জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। সেই বজ্রপাতের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

পীরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাটোর

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া গ্রামে চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের একটি চা-বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সারওয়ারদ্দী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের আবু সামাদের ছেলে। আহতরা হলেন-একই এলাকার মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩)। বর্তমানে তারা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর